Wednesday 16 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: ইনু-দীপু-শাহরিয়ারসহ ১১ আসামি ট্রাইব্যুনালে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৪২

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলায় গ্রেফতার ১১ আসামিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। শুনানিকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

মামলাটিতে সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি শাহরিয়ার কবিরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশ কর্মকর্তা ও সাংবাদিককে আসামি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, গত ২৭ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, শাপলা চত্বরের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬১ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।

বর্তমানে মামলাটিতে বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার হওয়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ. কে. এম. শহীদুল হক, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি শাহরিয়ার কবির, পুলিশের সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু।

এ ছাড়া সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। অন্য একটি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে থাকা হাসানুল হক ইনুকেও এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। একই মামলায় আবদুর রাজ্জাকও গ্রেফতার রয়েছেন।

মামলার অন্য আসামিরা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

মামলাটির আনুষ্ঠানিক অভিযোগে দু’টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রথম অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে রাতে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে আবু বকর সিদ্দিকসহ ৩২ জনকে হত্যার ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। ওই রাতে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্বিতীয় অভিযোগে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ছাদেক মিয়াসহ ২০ জনকে হত্যার ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত আরও কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের তথ্যও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া রাশেদুল ইসলাম, আবু ইউসুফসহ আরও কয়েকজনকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালানো এবং নির্যাতনের মাধ্যমে গুরুতর আহত করার অভিযোগও আনা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের দাবি, মামলায় উল্লেখ করা এসব কর্মকাণ্ড বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নির্যাতন এবং নিপীড়নের অংশ। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়ায় তা মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে।

ট্রাইব্যুনালে মামলাটির শুনানি ও পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রমে এসব অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের আইনি ভিত্তি পর্যালোচনা করা হবে।

শাপলা চত্বরকেন্দ্রিক এই মামলায় একদিকে যেমন ২০১৩ সালের ৫ মে ও পরদিনের ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে, অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও গুরুতর আহত করার ঘটনাও অভিযোগের আওতায় আনা হয়েছে। ফলে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চলমান বিচারিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ একটি মামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ব ওজোন দিবস আজ
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:২৫

আরো

সম্পর্কিত খবর