পবিত্র মক্কা নগরীর দিকে ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতিরা ড্রোন নিক্ষেপ করেছে বলে অভিযোগ করেছে সৌদি আরব। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুতিরা।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শত্রুপক্ষের ড্রোনটি শনাক্ত করে।
ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল–মালিকি জানান, সংরক্ষিত আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়।
আল-মালিকি এ ঘটনাকে মুসল্লিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো ও বেসামরিক লোকজনের ক্ষতি করার চেষ্টা হিসেবে নিন্দা জানিয়েছেন। সতর্ক করে তিনি বলেন, মুসলিমদের পবিত্র দুই মসজিদ (মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববি) ও মুসল্লিদের নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিকে, মক্কা নগরীতে মঙ্গলবার নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে সৌদি আরব সরকার। এবারই প্রথম মক্কায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হলো।
তবে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করার কয়েক মিনিটের মধ্যে তা তুলে নেয় সরকার। একই ধরনের সতর্কতা তাইফ ও সৌদি আরবের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর জেদ্দাতেও জারি করা হয়েছিল।
ইয়েমেনের বার্তা সংস্থা সাবা মঙ্গলবার হুতিদের একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। এতে হুতিদের একটি সামরিক সূত্র মক্কা ও অন্যান্য পবিত্র স্থানের প্রতি হুতিদের হুমকি থাকার অভিযোগ জোরালোভাবে নাকচ করেছে।
এমন অভিযোগকে ‘ভুল তথ্য’ বলে সমালোচনা করে সূত্রটি বলেছে, ‘মক্কা নগরী ও অন্য কোনো পবিত্র স্থানের প্রতি ইয়েমেন থেকে হুমকি রয়েছে—এমন অভিযোগ দ্ব্যর্থহীনভাবে অস্বীকার করছি আমরা।’
মক্কা নগরীকে নিশানা বানানোর অভিযোগ আগেও অস্বীকার করেছে হুতিরা। তাদের দাবি, তারা কখনোই পবিত্র স্থানগুলো নিশানা করে না।
হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পেছনে রয়েছে ইয়েমেনের দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ এবং লোহিত সাগরের উপকূল ও বাব আল-মানদেব প্রণালি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার মতো বিষয়। চলমান ইরান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের সঙ্গে হুতিদের আগের সেই বিরোধ এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। সর্বশেষ ২০১৭ সালে হুতিরা পবিত্র মক্কা নগরীতে হামলার চেষ্টা করেছিল।
ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেছে, সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের খামিস মুশাইত, আবহা আর তাইফ শহরে গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে হুতিরা। এতে ১৩ বেসামরিক মানুষ আহত এবং ৭টি বাড়ি ও ২টি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।