ঢাকা: সংবাদ প্রকাশে ক্ষিপ্ত হয়ে রাজধানীর পল্লবীতে সাংবাদিকের বাসায় ‘ভইরা দে’ গ্রুপ গুলিবর্ষণ করে বলে জানিয়েছেন এসআরবি-৪ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন তিনি।
লে. কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান বলেন, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাত ১টা ৩৫ মিনিটে রাজধানীর পল্লবী থানাধীন সবুজবাংলা এলাকায় এক বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিকের বাসায় হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সাংবাদিকের নাম প্রান্ত পারভেজ। ভিকটিমের দাবি অনুযায়ী, দুটি মোটরসাইকেলে করে চারজন সশস্ত্র সন্ত্রাসী গভীর রাতে তার বাসায় এসে তাকে খোঁজাখুঁজি করে। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
তিনি বলেন, ঘটনার পরপরই এসআরবি-৪ ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং অপরাধীদেরকে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত শুরু করে। গোয়েন্দা সূত্রের ভিত্তিতে জানতে পারি উক্ত ঘটনায় রবিন (২২) জড়িত রয়েছে। পরবর্তীতে এসআরবি-৪ গত ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে পল্লবী থানাধীন তালতলা বস্তি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে রবিনের মা মাদক ব্যবসায়ী মোছা. ডলি বেগমকে (৪৫) গ্রেফতার করে। সে সময় তার নিকট থেকে ৭৪৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ১৫ গ্রাম ইয়াব ট্যাবলেট এর গুড়া উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। ঐ সময় এসআরবির উপস্থিতি টের পেয়ে রবিন পালিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে এসআরবি-৪ ১৬ সেপ্টেম্বর রাত ১টা ৩০ মিনিটে অভিযান পরিচালনা করে ‘ভইরা-দে গ্রুপের’ অন্যতম সহযোগী ও সক্রিয় সদস্য বর্ণিত মামলার এজাহার নামীয় ২ নম্বর আসামি মো. আতিক ওরফে চোরা আতিককে (২২) গ্রেফতার করে। গ্রেফতার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তার অন্যান্য সহযোগী রবিন, ইব্রাহিম, শাহিন ওরফে শুটার শাহিন (২৫) এবং আল আমিন পল্লবী থানাধীন সেকশন-১১, এভিনিউ-৫ এর সামনে অবস্থান করছে এবং তারা সেখানে মাদক সেবন, ক্রয় বিক্রয়সহ সবসময় আড্ডা দিয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে পরিকল্পনা করে থাকে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসআরবি-৪ অভিযান পরিচালনা করে। এসআরবি’র উপস্থিতি টের পেয়ে গোলাগুলির ঘটনায় জড়িত আসামিরা দিকবিদিক ছোটাছুটি করে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ওই স্থানে একটি টিনের ঘরের পিছন থেকে ১টি খালি ম্যাগাজিন, ৯ রাউন্ড তাঁজা গুলিসহ ১টি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে পল্লবী থানা এলাকায় অভিযানকালে কিশোর গ্যাং অন্যতম সক্রিয় সদস্য মো. নিলয় সুজনকে (৩১) গ্রেফতার করা হয়। উক্ত সময়ে তার নিকট থেকে ৬টি ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন, ২টি ধারালো রামদা এবং অবৈধ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।
এসআরবি জানায়, আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাবাদে জানা যায়, ভুক্তভোগী সাংবাদিক মিরপুর ও পল্লবীসহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজি চালিয়ে আসা ‘ভইরা দে গ্রুপ’ বা আশিক গ্রুপ এর বিরুদ্ধে সম্প্রতি সংবাদ সম্প্রচার করা হয়েছিল। সেই সংবাদ প্রকাশের জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে আশিক গ্রুপের মূলহোতা আশিকের নির্দেশে তার সহযোগীরা মিলে এই হামলা চালিয়েছে। আসামিরা দীর্ঘদিন যাবৎ পল্লবী থানাধীন সবুজ বাংলা, বাউনিয়াবাদ, এভিনিউ-৫ ও তার আশেপাশের এলাকায় অবৈধ অস্ত্র মহড়া দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রর্দশন করে আসছিল। গ্রেফতার আসামি আতিকের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে।