ঢাকা: রাষ্ট্র মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংক ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক। তিনি বলেছেন, ব্যাংকটির লোকসান কমে আসছে এবং আমানতও বাড়ছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে বেসিক ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ব্যাংকটির ৩৭তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) তিনি এসব কথা বলেন।
ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হেলাল আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় নাজমা মোবারেক বলেন, ‘বেসিক ব্যাংক এখন ক্রমশ ভালো করছে। লোকসান কমে আসার ধারায় রয়েছে। অব্যাহত প্রচেষ্টার মাধ্যমে লোকসানের পরিমাণ আরও কমিয়ে আনতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘ব্যাংকটির আমানতও বাড়ছে। এর অর্থ হলো ব্যাংকের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ছে। সরকারি ব্যাংকের আমানতের দায়িত্ব সরকার নেবে-এমন বক্তব্যের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে অনেকটাই আস্থা ফিরে এসেছে। এর ফলে ব্যাংকের ঋণ-আমানত অনুপাত কমে এসেছে এবং এখন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতাও বেড়েছে।’
তবে নতুন ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন থেকে যাচাই-বাছাই করে ঋণ দিতে হবে। বেসিক ব্যাংক নিয়ে তারা পুরোপুরি আশাবাদী এবং ব্যাংকটি ভালো অবস্থানে ফিরে আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।’
সভায় বেসিক ব্যাংকের শ্রেণীকৃত বা খেলাপি ঋণ পরিস্থিতির উন্নতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান নাজমা মোবারেক। একই সঙ্গে ব্যাংকের নন-ইন্টারেস্ট ইনকাম বা সুদবহির্ভূত আয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও মানবসম্পদের প্রশংসা করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব বলেন, ‘বেসিক ব্যাংকের বোর্ড সদস্যরা অনেক দক্ষ। ব্যাংকের মানবসম্পদের মানও ভালো। বিভিন্ন সময়ে মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ও উপব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (ডিএমডি) পদোন্নতির ভাইভা বোর্ডে থাকার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি এ বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।’
তিনি বলেন, ‘ব্যাংকে যারা কাজ করছেন, তাদের ওপর আস্থা রয়েছে। তাদের প্রচেষ্টায় ব্যাংকটিকে টেনে তোলা সম্ভব হবে।’ ব্যাংকের অবস্থার উন্নতিতে পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনার যৌথ প্রচেষ্টারও প্রশংসা করেন তিনি।
ব্যাংকের চেয়ারম্যান হেলাল আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘খেলাপি ঋণ আদায়ই ব্যাংকের মূল ফোকাস। বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারের আলোকে খেলাপি ঋণ আদায় প্রক্রিয়া জোরদার এবং আইনি প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করতে হবে।’
একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সব নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিপালন এবং কর্মক্ষেত্রে সুশাসন বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন চেয়ারম্যান। এ সময় অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
সভায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব শেখ ফরিদও ব্যাংকের নন-ইন্টারেস্ট ইনকাম বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও বেসিক ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের পর্যবেক্ষক রুপ রতন পাইন বলেন, বেসিক ব্যাংকের সুনাম বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়াবে।
সভায় ব্যাংকের ২০২৫ সালের আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়। ব্যাংকের শতভাগ শেয়ারহোল্ডার বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক সভায় উপস্থিত ছিলেন। ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু মো. মোফাজ্জেল সভায় উপস্থিত সবাইকে স্বাগত জানান এবং বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য মুন্সি আব্দুল আহাদ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব শেখ ফরিদ, মো. মতিউর রহমান, এফসিএ, এফসিএমএ, সরকারের অবসরপ্রাপ্ত গ্রেড-১ কর্মকর্তা ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল, অবসরপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ ব্যাংকার এস এম ইকবাল হোছাইন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও বেসিক ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের পর্যবেক্ষক রুপ রতন পাইন, মহাব্যবস্থাপক ও কোম্পানি সচিব মো. হাসান ইমাম এবং ব্যাংকের অডিট ফার্ম কাজী জহির খান অ্যান্ড কোম্পানির প্রতিনিধি।