Thursday 17 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবায়নের সময় এসেছে: পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৮:০২ | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:১৮

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহম্মদ আসিফ।

পবিত্র মক্কা নগরীর কাছে হুতিদের ড্রোন হামলার চেষ্টার পর সৌদি আরবের সঙ্গে করা ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ বাস্তবায়নের সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহম্মদ আসিফ। তিনি বলেন, পবিত্র স্থানগুলো রক্ষায় পাকিস্তানকে কোনো চুক্তির প্রয়োজন নেই, এটি দেশটির দায়িত্বের অংশ।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের অনুষ্ঠান ‘আজ শাহজেব খাঞ্জাদা কে সাথ’-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

খাজা আসিফ বলেন, ‘মক্কা চুক্তি আমাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করব।’ তবে চুক্তির সামরিক বা প্রতিরক্ষাবিষয়ক বিস্তারিত প্রকাশ্যে আলোচনা করা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, মক্কায় হামলা হলে পবিত্র নগরী রক্ষার জন্য কোনো চুক্তির প্রয়োজন নেই। পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পাকিস্তানের দায়িত্বের অংশ।

সৌদি আরবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মক্কার দক্ষিণে একটি হুথি ড্রোন শনাক্ত করে এবং সেটি পবিত্র নগরীর নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ভূপাতিত করা হয়। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের এক মুখপাত্র এ তথ্য জানিয়েছেন। মক্কাকে লক্ষ্য করে এটি হুতিদের দ্বিতীয়বারের মতো হামলার চেষ্টা বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুতিরা। সংগঠনটির মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, তাদের অভিযান সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে, যেগুলো পবিত্র স্থানগুলো থেকে অনেক দূরে।

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে খাজা আসিফ বলেন, তিন দেশের যেকোনো একটির আঞ্চলিক অখণ্ডতা বা ভৌগোলিক সীমান্ত লঙ্ঘিত হলে পারস্পরিক প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা চুক্তিতে রাখা হয়েছে। এটির প্রয়োগ নিয়ে ‘একেবারেই কোনো অস্পষ্টতা’ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে পাকিস্তান কোনো প্রতিরক্ষা বা সামরিক কৌশলের বিস্তারিত প্রকাশ্যে আলোচনা করবে না বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, ইসলামাবাদ চুক্তির আওতাভুক্ত এবং প্রয়োজন হলে পাকিস্তান তার দায়িত্ব পালন করবে।

এর আগে বুধবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় তাঁর দেশের পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ইসলামাবাদ রিয়াদের সঙ্গে ‘কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে’ দাঁড়িয়ে আছে।

মক্কা আল-মুকাররামাহর বিরুদ্ধে কথিত ড্রোন হামলার চেষ্টার নিন্দা জানিয়ে শাহবাজ শরিফ একে ‘জঘন্য ও নৃশংস হামলার চেষ্টা’ বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন এবং পরিস্থিতির আরও অবনতি এড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, আঞ্চলিক সংঘাতের টেকসই সমাধানের পথ হলো সংলাপ ও কূটনীতি।

এদিকে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথি হামলার উদ্বেগের মধ্যে পাকিস্তান ইরানের কাছে সৌদি আরবের বার্তা পৌঁছে দিয়েছে বলেও জানান খাজা আসিফ।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র হিসেবে ইরান এমনভাবে হুতিদের সমর্থন করবে বলে তিনি মনে করেন না, যাতে এই অঞ্চলে নতুন কোনো সংঘাতের ফ্রন্ট খুলে যায়। তার ভাষায়, ‘আমি মনে করি না, রাষ্ট্র হিসেবে ইরান আরেকটি ফ্রন্ট খুলবে।’

ইরানি রাষ্ট্র এবং অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ডের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে আসিফ বলেন, এসব গোষ্ঠী কোনো রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন বা সমর্থনের অপেক্ষা না করেও নিজেদের মতো করে পদক্ষেপ নিতে পারে।

হুথি ও সৌদি আরবের সংঘাতে ইরান সরাসরি পক্ষ নিলে তা তেহরানের জন্য বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, সংঘাত যাতে নতুন কোনো অঞ্চলে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য পাকিস্তান কাজ করে যাবে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা দেশগুলোর নিরাপত্তা প্রয়োজন বিবেচনায় গড়ে উঠেছে। ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে আরও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা তৈরি হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তবে এটিকে তাঁর ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ হিসেবে উল্লেখ করেন আসিফ।

তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দাবসহ গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক যোগাযোগপথে বিঘ্ন ইতিমধ্যে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে। এসব পথের অব্যাহত অস্থিরতা পাকিস্তানের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আসিফের মতে, আঞ্চলিক দেশগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য আরও ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা করতে হতে পারে। সামুদ্রিক বাণিজ্যপথগুলো উন্মুক্ত রাখা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

নতুন আইনে মামলার তদন্ত করবে এপিবিএন
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:০২

আরো

সম্পর্কিত খবর