Friday 18 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

এখন আর ছড়া-ঝিরি নয়, বাড়ির পাশেই মিলছে বিশুদ্ধ পানি

মোহাম্মদ ইসহাক, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:১৩ | আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৩২

প্রযুক্তির মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্প। ছবি: সারাবাংলা

বান্দরবান: একসময় বান্দরবানের দুর্গম এলাকার মানুষের নিত্যদিনের কাজ ছিল পাহাড়ি পথ বেয়ে নিচে নেমে ছড়া-ঝিরি থেকে পানি আনা। আর এই কাজের বড় অংশই করতে হতো নারী-শিশুদের। শুষ্ক মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বাড়ত। তবে সেই বাস্তবতা এখন অতীত, ৪৫ কোটি টাকায় ‘বিভিন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন’ প্রকল্পের আওতায় দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে জিএফএস, রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং সিস্টেম, গভীর নলকূপ, রিংওয়েল ও স্যানিটেশন। ফলে জেলার সাতটি উপজেলা দু’টি পৌরসভাসহ ৮৫টি দুর্গম পাড়ার বাসিন্দারা পাচ্ছেন বিশুদ্ধ পানির নিশ্চয়তা ও উন্নত স্যানিটেশন সুবিধা।

বিজ্ঞাপন

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের আওতায় এরই মধ্যে নতুন পানির উৎস স্থাপন, পাইপলাইন সম্প্রসারণ, গভীর নলকূপ স্থাপন ও আধুনিক স্যানিটেশন ল্যাট্রিন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার সব উপজেলায় প্রযুক্তির মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশনবিষয়ক প্রকল্পের আওতায়, সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ৪৫ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয় পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়। পার্বত্য জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর।

২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জেলায় ১২টি জিএফএস মেরামত, নতুন করে আরও ১০টি জিএফএস নির্মাণ, ৫৮৩টি রিংওয়েল নির্মাণ, ১৪০টি রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং সিস্টেম স্থাপন, ৮৫টি গভীর নলকূপ নির্মাণের অর্থ বরাদ্দ ছিল। সেই সঙ্গে পাড়াভিত্তিক পানি সরবরাহ নিশ্চিতে ৮৫টি প্রোডাকশন টিউবওয়েল স্থাপন করে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়াও স্যানিটেশন সুবিধা সম্প্রসারণে বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্যসম্মত ৩০টি টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে।

বান্দরবান সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ‘বিভিন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন’ প্রকল্পের আওতায় বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর দুর্গম এলাকায় গভীর নলকূপ, জিএফএস, রিংওয়েল এবং অন্যান্য পানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্থাপন করেছে।

প্রযুক্তির মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্প। ছবি: সারাবাংলা

প্রযুক্তির মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্প। ছবি: সারাবাংলা

বান্দরবান মেঘলা এলাকার বাসিন্দা জসিম উদ্দিন ও কনক চাকমা সারাবাংলাকে বলেন, আগে পানি সংগ্রহের জন্য অনেক দূরে যেতে হতো। এখন সেই কষ্ট অনেকটাই কমে গেছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের দেওয়া গভীর নলকূপের মাধ্যমে এখন খুব সহজেই ঘরের নিত্যদিনের ব্যবহারের পানি পাচ্ছি।

লম্বা রাস্তা এলাকার সুফিয়া খাতুন জানান, আগে রাস্তার পাশে পাহাড়ি ঝিড়ি থেকে ঘোলা পানি সংগ্রহ করতে হতো। এখন পুরো এলাকার মানুষ ঘরের পাশেই পানির সুবিধা পাচ্ছে। আগের মতো আর কষ্ট করতে হয় না। টিএনটি পাড়ার কারবারি অংবাই মারমা জানান, এই এলাকার মানুষের একমাত্র পানির উৎস ছিল অনেক দূরে পাহাড়ের পাদদেশ দিয়ে বয়ে যাওয়া একটি ঝিরি। ঝিরির পানি নোংরা ও ময়লাযুক্ত হলেও কয়েকটি পাড়ার হাজারো মানুষকে এর ওপর নির্ভর করতে হতো। এখন পাড়ায় গভীর নলকূপ স্থাপন করে দেওয়ায় ঘরে বসেই সুপেয় পানি পাচ্ছি।

প্রকল্পটির বিষয়ে বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে সারাবাংলাকে বলেন, ‘পাহাড়ি এলাকায় নিরাপদ পানি নিশ্চিতে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের কারণে বান্দরবানের দুর্গম এলাকায় সুপেয় পানি সরবরাহে ভিন্ন ভিন্ন প্রযুক্তির ব্যবহার করতে হয়।

তিনি আরও জানান, সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে জেলায় দুর্গম গ্র্যাভিটি ফ্লো সিস্টেম (জিএফএস) মেরামত এবং নতুন জিএফএস, রিংওয়েল, রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং সিস্টেম, গভীর নলকূপ ও পাড়াভিত্তিক পানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। যেসব এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপন সম্ভব হয়নি, সেখানে বিকল্প প্রযুক্তির মাধ্যমে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে কিছু স্থাপনার প্লাস্টার ও রঙের কাজ বাকি থাকলেও প্রকল্পের মূল কার্যক্রম এরই মধ্যে শেষ হয়েছে।

স্থানীয় পাহাড়ি-বাঙালিরা জানান, এই প্রকল্প শুধু তাদের স্বাস্থ্যের উন্নতিই করেনি, পর্যটন জেলা বান্দরবানের সার্বিক ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল করেছে। স্থাপিত পানি সরবরাহ ব্যবস্থাগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে বান্দরবানের প্রত্যন্ত পাহাড়ি জনপদে সুপেয় পানির এই স্বস্তির ধারা দীর্ঘদিন অব্যাহত থাকবে।

সারাবাংলা/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর