Sunday 20 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:০১

সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ৫০০ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি প্রকাশ করা হয়। রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

এর আগে, গত ৩০ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটি প্রমাণিত হওয়ায় ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। তিনটি অভিযোগে পৃথকভাবে ১০ বছর করে সাজা হলেও তা একই সঙ্গে কার্যকর হওয়ায় মোট ১০ বছর কারাভোগ করতে হবে তাকে।

বিজ্ঞাপন

পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, ইনুর বিরুদ্ধে আনা ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে আটক ও নির্যাতনের জন্য কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া, মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনা এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

৩ নম্বর অভিযোগে বলা হয়, আন্দোলনকারীদের ছবি দেখে তাদের তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং তাদের আটক ও নির্যাতনের জন্য কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোনে নির্দেশ দেন ইনু। এ অভিযোগটি ট্রাইব্যুনালে প্রমাণিত হয়।

৬ নম্বর অভিযোগে ১৪ দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইনুর ভূমিকার কথা বলা হয়। এ অভিযোগেও তার দায় প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

৭ নম্বর অভিযোগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়। ট্রাইব্যুনাল এ অভিযোগও প্রমাণিত বলে রায়ে উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে, ইনুর বিরুদ্ধে আনা ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এসব অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

মামলার ২ নম্বর অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গণভবনে ১৪ দলীয় জোটের সভায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে ‘শুট অ্যাট সাইট’ সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল। সভায় উপস্থিত থেকে ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নির্দেশ, প্ররোচনা ও সহায়তার অভিযোগ থাকলেও তা প্রমাণিত হয়নি।

৪ নম্বর অভিযোগে আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহার, ছত্রীসেনা মোতায়েন এবং হেলিকপ্টার থেকে বোমা হামলার পরিকল্পনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়। ৫ নম্বর অভিযোগে বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উসকানি এবং হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনকে সমর্থনের অভিযোগ ছিল। এ দুটি অভিযোগও প্রমাণিত হয়নি।

৮ নম্বর অভিযোগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে আন্দোলনকারী ইউসুফ শেখ, উসামা, সুরুজ আলী, আশরাফুল ইসলাম, বাবলু ফরাজী ও আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিনকে হত্যায় নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। একই সঙ্গে সারাদেশে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা এবং ২৫ হাজারের বেশি ছাত্র-জনতাকে আহত করার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও ছিল। তবে এ অভিযোগও প্রমাণিত না হওয়ায় ইনুকে খালাস দেওয়া হয়।

রায়ে প্রমাণিত অভিযোগগুলোর জন্য দেওয়া সাজাগুলো একই সঙ্গে কার্যকর হবে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট দুই অভিযোগে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়ার নির্দেশও রয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, এই মামলার রায়ের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন আপিল করার প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রসিকিউশন পক্ষ জানিয়েছে, ইনুর সাজা বাড়ানোর বিষয়ে আপিল করা হবে।

হাসানুল হক ইনু বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শাপলা চত্বরের ঘটনায় করা পৃথক মামলাতেও বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন।

সারাবাংলা/টিএম/এনজে
বিজ্ঞাপন

আজ ঢাকার বাতাসের মান 'ভালো'
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৫১

আরো

সম্পর্কিত খবর