উত্তর সিরিয়ার একটি অস্ত্রাগারে শক্তিশালী বিস্ফোরণে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের পর কর্মকর্তারা জনসাধারণকে ওই এলাকা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা ‘সানা’র বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোরে আলেপ্পো শহরের দক্ষিণে আল-ইস এলাকার কাছে সিরীয় সেনাবাহিনীর একটি ঘাঁটিতে এই বিস্ফোরণগুলো ঘটে।
বিস্ফোরণগুলোর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
আলেপ্পোতে সিভিল ডিফেন্স বা জরুরি উদ্ধারকাজের প্রধান ফয়সাল মোহাম্মদ আলি ‘সানা’-কে জানিয়েছেন, উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে চারজন আহত ব্যক্তিকে সরিয়ে নিয়েছেন।
আলেপ্পো থেকে আল-জাজিরার সাংবাদিক ওবাইদা হিত্তো জানিয়েছেন, প্রথম বিস্ফোরণের পর আরও কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটেছে।
তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। আমরা এখন বেশ কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়িকে ওই এলাকার দিকে যেতে দেখেছি।’
আলেপ্পোর গভর্নর আজ্জাম আল-ঘারিব বাসিন্দাদের আপাতত ঘর থেকে বের না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং বলেছেন, হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবাদানকারী দলগুলো সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।
আলেপ্পোর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কমান্ড জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিস্ফোরণস্থলের দিকে যাওয়া রাস্তাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
আলেপ্পোর হামদানিয়া এলাকার এক বাসিন্দা এএফপি বার্তা সংস্থাকে জানিয়েছেন, তারা একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছিলেন এবং ছাদে উঠে দূরে বিশাল আগুনের শিখা দেখতে পেয়েছিলেন।
সিরিয়ায় এর আগেও এমন বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছ। দেশটি দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদের পতনের (যা ২০২৪ সালের শেষের দিকে ঘটেছিল) পর দেশটি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ দেইর আজ-জোরে একটি সামরিক স্থাপনায় অজ্ঞাত উৎস থেকে হওয়া বিস্ফোরণে ১১ জন নিহত হয়েছেন।
চলতি মাসের শুরুর দিকে সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিব প্রদেশে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি অস্ত্রাগারে বিস্ফোরণে ১৪ জন নিহত ও ১১ জন আহত হন।
এর ঠিক এক সপ্তাহের কিছু বেশি সময় আগে একই এলাকায় গোলাবারুদবাহী একটি গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটলে পাঁচজন নিহত হয়েছিলেন।