ঢাবি: বিতর্কচর্চা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় সংসদে পরমতসহিষ্ণুতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের এক বিতর্ক প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলাদা প্রতিভা রয়েছে। আর যারা বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নেন, তারা ‘ট্যালেন্টস অব দ্য ট্যালেন্টস’। আগামী দিনে বিতার্কিকরাই দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবেন।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আরো বলেন, যুক্তি ও তথ্যনির্ভর বক্তব্য মানুষের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য হয়। একজন কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়া বক্তব্য দিলে তার তুলনায় পরিসংখ্যান, ইতিহাস ও প্রমাণের ভিত্তিতে যুক্তি উপস্থাপনকারী ব্যক্তির বক্তব্য বেশি গুরুত্ব পায়। তাই ভবিষ্যতে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য বিতর্কচর্চা গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, বিতর্কে একটি পক্ষের যুক্তি অন্য পক্ষ খণ্ডণ করে পালটা যুক্তি দেয়। এ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পরমতসহিষ্ণুতার চর্চা তৈরি হয়। সংসদের বাইরের বিতর্ক প্রতিযোগিতা থেকে এই অভিজ্ঞতা জাতীয় সংসদের কার্যক্রমেও কাজে লাগানো যেতে পারে।
জাতীয় সংসদের কার্যক্রম নিয়ে তিনি বলেন, সংসদ মূলত আইন প্রণয়নের জন্য। কিন্তু স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে সংসদে আইন প্রণয়নের চেয়ে অন্যান্য আলোচনায় বেশি সময় ব্যয় হয়েছে। সপ্তম সংসদে আইন প্রণয়নে ৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ, অষ্টম সংসদে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ, নবম সংসদে ৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ, দশম সংসদে ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ এবং একাদশ সংসদে ১৭ শতাংশ সময় ব্যয় হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। দ্বাদশ সংসদে এ হার ছিল ৭ শতাংশ এবং বর্তমান ত্রয়োদশ সংসদে এখন পর্যন্ত ১২ শতাংশ সময় আইন প্রণয়নে ব্যয় হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, সংসদ যদি কেবল আইন ‘পাস’ করার জায়গায় পরিণত হয় এবং প্রস্তাবিত আইন নিয়ে পর্যাপ্ত বিচার-বিশ্লেষণ না হয়, তাহলে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের যে দায়বদ্ধতা রয়েছে, তা যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব হয় না। সংসদ সদস্যদের কার্যকরভাবে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া প্রয়োজন।
দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যেখানে প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত হবে এবং মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারবে। শুধু ‘রাবার স্ট্যাম্প’ হিসেবে সংসদকে দেখতে চান না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশের তরুণ ও শিক্ষার্থীরা মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে রাজপথে নেমেছিল। তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও আন্দোলনে যুক্ত হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশে যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, তা প্রত্যাশিত ছিল না।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হতে পারে, তবে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। দল, মত ও পথের পার্থক্য ভুলে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকদের জাতীয় সংসদের অধিবেশন দেখার জন্য আমন্ত্রণ জানান। ভবিষ্যতে বিভিন্ন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় যুক্ত থাকার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।