ঢাকা: সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হচ্ছে না- বলে দাবি করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে স্থায়ী ও গতিশীল করতে বর্তমান আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও বেশি জনমুখী ও জবাবদিহিমূলক করার লক্ষ্যে কাজ চলছে বলে জানান তিনি। গণতান্ত্রিক ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে একটি জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা কায়েম করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে অবস্থিত ডেপুটি স্পিকারের কার্যালয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ (এপিপিজির) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠককালে ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সংলাপে অংশ নেন ব্রিটিশ পার্লামেন্ট মেম্বার অপসানা বেগম, শওকত আদম এবং যুক্তরাজ্যের এপিপিজির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লর্ড কুরবান হোসেন। এ সময় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের ২০২৬ সালের অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশ-বিদেশে সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ায় প্রতিনিধিদল সন্তোষ প্রকাশ করে অভিনন্দন জানায়। আলোচনায় ডেপুটি স্পিকার জানান, বিগত দেড় দশকে দেশে গণতন্ত্র বহাল না থাকলেও বর্তমানে সংসদে পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক চর্চা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
এছাড়া বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা উদ্যোগ যেমন ফ্যামিলি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড ও কৃষক কার্ড চালুর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, যুক্তরাজ্যের মতো কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের আদলেই বাংলাদেশে এসব জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী ও খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শাখা বাংলাদেশে খোলার আগ্রহ প্রকাশ করে ব্রিটিশ প্রতিনিধিদল। এই প্রস্তাবে সায় দিয়ে গুণগত মান বজায় রাখতে যুক্তরাজ্যের শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিয়োগের পরামর্শ দেন ডেপুটি স্পিকার। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সরাসরি সংসদ অধিবেশন দেখা ও নবনির্মিত জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনের আমন্ত্রণের মধ্য দিয়ে উভয় দেশের সংসদীয় অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুদৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়।