চট্টগ্রাম: ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত ১০ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পুনর্বহালের দাবিতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন চাকরিচ্যুতরা। একই সঙ্গে ঢাকার কর্মসূচিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানান তারা। পুলিশ আন্দোলনকারীদের সরাতে গেলে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এতে তিনজন আহত হয়েছেন বলে আন্দোলনকারীরা দাবি করেছেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পটিয়া মডেল মসজিদের সামনে জড়ো হন আন্দোলনকারীরা। অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয়পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়। দুই পাশে শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে। এতে দুর্ভোগে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রীরা। অবরোধ কর্মসূচিতে স্থানীয় অনেক বাসিন্দাও অংশ নেন।
আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। আন্দোলনকারীদের ওপর কয়েক দফা হামলার অভিযোগের প্রতিবাদ ও চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহালের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধের কর্মসূচি দেওয়া হয়। কর্মসূচির একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরোধের পর বেলা আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থলে যান পটিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমান। তিনি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। দাবি ও উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়টি আগামী বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠেয় আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক সভায় উপস্থাপনের আশ্বাস দেন তিনি।
ইউএনওর আশ্বাসের পর আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন। পরে তারা মহাসড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। আন্দোলনকারীরা জানান, চাকরিতে পুনর্বহাল না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। দাবি মেনে না নিলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণাও দেয় তারা।
উল্লেখ্য, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ইসলামী ব্যাংক, আল আরাফাহ ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ১০ হাজার কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়। চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে তারা বেশ কিছুদিন ধরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব, পটিয়া ও ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করে আসছেন।
পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, ‘আমরা বুঝিয়ে অবরোধ করা ব্যক্তিদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিয়েছি। এরপর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। লাঠিপেটার অভিযোগ সত্য নয়।’