জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) আগে ক্রিকেটারদের ফিটনেস পরীক্ষা শুরু করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। মঙ্গলবার ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রথম দিনের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন প্রায় ১৫০ ক্রিকেটার। এর মধ্যে চারজন নির্ধারিত মানে পৌঁছাতে পারেননি। তবে সামগ্রিকভাবে প্রথম দিনের ফলাফলকে ‘সন্তোষজনক’ বলছে বিসিবি।
প্রথম দিনে খুলনা, ঢাকা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের প্রথম ও দ্বিতীয় একাদশের ক্রিকেটারদের পরীক্ষা নেওয়া হয়। অ্যাথলেটিক ট্র্যাকে ক্রিকেটারদের ১ হাজার ৬০০ মিটার দৌড়ের সময় নির্ধারন করে দেওয়া হয়। ব্যাটারদের জন্য বিসিবির নির্ধারিত সময় ছিল ৭ মিনিট ২০ সেকেন্ড। পেসারদের ক্ষেত্রে সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭ মিনিট। প্রথম দিনে অংশ নেওয়া ক্রিকেটাররা গড় টাইমিং ছিল ৬ মিনিট ৫০ সেকেন্ড।
পরীক্ষা শেষে বিসিবির ট্রেনার ইফতেখার ইফতি বলেন, ‘আমরা অন্যান্য বছরের মতোই এনসিএলকে সামনে রেখে ফিটনেস পরীক্ষা নিয়েছি। তবে এবার প্রক্রিয়াটি ভালোভাবে এগোচ্ছে। আমরা প্রতি বছর সব খেলোয়াড়ের দুটি করে পরীক্ষা নেব, যাতে তারা কোন অবস্থায় আছেন, সেটা জানা যায়।’
ফিটনেস পরীক্ষার ফলাফল এক-দুই দিনের মধ্যে পাওয়া যাবে জানিয়ে ইফতি বলেন, ‘সম্ভবত এক দিনই লাগবে। ফলাফল দেখার পর আমরা বুঝতে পারব কারও ফিটনেসের অবনতি হয়েছে কি না। যেহেতু এটি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের জন্য, মাঠে নামতে হলে শারীরিক ফিটনেসের একটি ন্যূনতম মান অর্জন করতে হয়। সে কারণেই আমরা এই উদ্যোগ নিচ্ছি।’
প্রথম দিনের পরীক্ষায় চারজন ফেল করলেও তাদের জন্য সুযোগ শেষ হয়ে যাচ্ছে না। তাদের দ্বিতীয়বার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। অসুস্থতা কিংবা অন্য কোনো কারণে পরীক্ষায় ব্যর্থ হলে ১০ দিন পর আবার ফিটনেস পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকবে। দ্বিতীয়বারও ব্যর্থ হলে আরও ১০ দিন পর নেওয়া হবে আরেকটি পরীক্ষা।
এ বিষয়ে ইফতি বলেন, ‘কেউ যদি ফেল করে বা হয়তো অসুস্থ ছিল, তাহলে আমরা ১০ দিন পর আবার পরীক্ষা নেব। সেখানেও যদি ফেল করে, তাহলে আরও ১০ দিন পর আরেকটি পরীক্ষা নেওয়া হবে।’
ফিটনেসে দুর্বলতা থাকা ক্রিকেটারদের উন্নতিতেও কাজ করবে বিসিবি। প্রয়োজন হলে তাদের ট্রেনিংয়ের পরিমাণ বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন ইফতি।
তিনি বলেন, ‘যাদের ফিটনেসে দুর্বলতা আছে, তাদের দায়িত্ব আমরা নেব। শেষ পর্যন্ত তারা যদি ফেল করে, তাহলে তো কোথাও যেতে পারবে না। তাই আমরা চেষ্টা করব তাদের পাস করাতে। সে ক্ষেত্রে ফিটনেস ট্রেনিং বাড়ানো হবে। তবে তারা খেলতে পারবে কি না, সেটা বলতে পারছি না, কারণ সেই সিদ্ধান্ত বোর্ডের।’
এনসিএলের আগে এবার ধাপে ধাপে ক্রিকেটারদের ফিটনেস যাচাই করা হচ্ছে। বুধবার জাতীয় স্টেডিয়ামে হবে পরীক্ষার দ্বিতীয় ধাপ। পাশাপাশি ক্রিকেটে ফিটনেসের গুরুত্ব বাড়াতে ভবিষ্যতে বছরে দুইবার সব ক্রিকেটারের ফিটনেস পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিসিবি বলে জানা যাচ্ছে।