ঢাকা: দেশের মানুষের আমিষের ঘাটতি পূরণ এবং মৎস্য উৎপাদনে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে সংসদ ভবন লেকে আড়াইশ কেজি পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়েছে। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে রুই, মৃগেল, কাতলা ও কালিবাউশ জাতের এই মাছগুলো অবমুক্ত করেন। পর্যায়ক্রমে এই লেকে মোট এক হাজার দুইশ কেজি পোনা মাছ ছাড়া হবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত সংসদ ভবন লেক চত্বরে এই মৎস্য পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া। এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন স্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের মানুষের আমিষের চাহিদা মেটাতে মুক্ত ও বদ্ধ জলাশয়ে পরিকল্পিত মৎস্য চাষ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সার্বিক উদ্যোগে সারা দেশেই মৎস্য চাষের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়েছে। এর অংশ হিসেবেই সংসদ ভবন লেকে পর্যায়ক্রমে মাছের পোনা অবমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমাদের উপকূলীয় ও বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চল মৎস্য সম্পদ আহরণের জন্য দারুণ সম্ভাবনাময়। সংসদ লেকে মাছ চাষের মাধ্যমে মূলত গ্রামাঞ্চলের মানুষকে মৎস্য উৎপাদনে আরও বেশি উৎসাহিত করা হচ্ছে।
সভাপতির বক্তব্যে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, দেশের মানুষের আমিষের চাহিদা নিশ্চিত করতে মাছ ও মাংসের উৎপাদন বাড়াতে সরকার বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। ‘আমাদের সন্তান থাকুক দুধে-ভাতে’ এবং ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ এই ঐতিহ্য ও প্রত্যয় বাস্তবায়নের জন্য দেশের প্রতিটি এলাকায় মৎস্য উৎপাদন বহুগুণে বাড়িয়ে তুলতে হবে। সংসদ ভবন লেকে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমী কার্যক্রম সাধারণ মানুষকে নিজেদের পুকুর ও জলাশয়ে মাছ চাষ করতে আরও বেশি আগ্রহী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।