ঢাকা: আমদানি ও পরিবহন সেবা ছাড়া চলতি হিসাবের লেনদেনের আওতায় বহির্মুখী রেমিট্যান্স বা বিদেশে অর্থ পাঠানোর বিধিবিধান একত্র করে সমন্বিত সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক এ সার্কুলার জারি করে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, বৈদেশিক মুদ্রা-সংক্রান্ত বিভিন্ন সময়ে জারি করা প্রযোজ্য বিধিবিধান একটি নথিতে একত্র করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। এর ফলে ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বহির্মুখী রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা একটি জায়গা থেকেই জানতে পারবেন।
নতুন সার্কুলারে গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর জারি করা মূল সার্কুলারের পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে জারি করা বিভিন্ন নির্দেশনা ও সার্কুলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন সমন্বিত সার্কুলার জারির ফলে এর আওতাভুক্ত আগের সব নির্দেশনা বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে রিপোর্টিং-সংক্রান্ত নির্দেশনাগুলো আগের মতোই বহাল থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সার্কুলারে বিদেশে অর্থ পাঠানোর বিভিন্ন খাত ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিদেশ ভ্রমণ, বিদেশে চিকিৎসা, সরকারি ও আধা-সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর, শিক্ষা, ভিসা ও অভিবাসন ফি, বিদেশে কর্মসংস্থান এবং পেশাগত প্রশিক্ষণ ও সেমিনারে অংশগ্রহণের ব্যয়।
এ ছাড়া বিদেশে মুনাফা ও লভ্যাংশ পাঠানো, পরামর্শক ও প্রশিক্ষণ সেবার মূল্য পরিশোধ, বিদেশি এজেন্টের পাওনা, বিদেশে শাখা খোলা, উড়োজাহাজ ও জাহাজের লিজ ভাড়া পরিশোধের বিষয়েও নির্দেশনা রয়েছে।
সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবা, ই-কমার্স এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের (এসএমই) বিভিন্ন ধরনের অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রেও নতুন সার্কুলারে প্রয়োজনীয় বিধান রাখা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন, কার্ড প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অর্থ পরিশোধ এবং ব্যাংকের মধ্যস্থতায় আন্তসীমান্ত ডিজিটাল পেমেন্ট ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় লেনদেনের বিষয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ভ্রমণসংক্রান্ত খাতেও রয়েছে বিস্তারিত নির্দেশনা। বিদেশ ভ্রমণ, চিকিৎসা, ব্যবসায়িক সফর এবং হজ ও ওমরাহসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়ের ক্ষেত্রে কীভাবে অর্থ পরিশোধ করতে হবে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সমন্বিত সার্কুলারটি ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে পরবর্তী এক বছর কার্যকর থাকবে। এই সময়ের মধ্যে নতুন কোনো নির্দেশনা জারি হলে তা এই সমন্বিত সার্কুলারের সঙ্গে মিলিয়ে পড়তে হবে। কোনো বিষয়ে অস্পষ্টতা বা অসামঞ্জস্য দেখা দিলে মূল সার্কুলারে থাকা নির্দেশনাই অনুসরণ করতে হবে।
ব্যাংকিং খাত ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, বিভিন্ন সময়ে জারি করা একাধিক সার্কুলার ও নির্দেশনা আলাদাভাবে খুঁজে দেখার প্রয়োজন কমবে। একই সঙ্গে ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের জন্য বহির্মুখী রেমিট্যান্স-সংক্রান্ত বিধিবিধান খুঁজে পাওয়া ও অনুসরণ করা সহজ হবে।