Wednesday 30 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

রাবির সাংবাদিকতা বিভাগের উদ্যোগে ডিজিটাল সক্ষমতা নিয়ে সংলাপ

রাবি করেসপন্ডেন্ট
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৮:৫১ | আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:০৫

ব্রিটিশ কাউন্সিলের সিইও স্কট ম্যাকডোনাল্ড-সহ অতিথিরা

রাবি: তরুণদের ডিজিটাল সক্ষমতা বৃদ্ধি, অপতথ্য মোকাবিলা এবং অনলাইন পরিসরে সচেতন ও দায়িত্বশীল আচরণ গড়ে তোলার লক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জামাল নজরুল ইসলাম একাডেমিক ভবনের প্রকৌশল অনুষদ গ্যালারিতে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের উদ্যোগে এবং ব্রিটিশ কাউন্সিলের অংশগ্রহণে ‘এ ডায়ালগ অন দ্য ইয়ুথ কানেক্ট: ডিজিটাল রেজিলিয়েন্স প্রজেক্ট’ শীর্ষক এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) স্কট ম্যাকডোনাল্ড।

বিজ্ঞাপন

ব্রিটিশ কাউন্সিলের অর্থায়নে ও ঢাকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউল্যাবের মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের পরিচালনায় ‘ইয়ুথ কানেক্ট: ডিজিটাল রেজিলিয়েন্স প্রজেক্ট’ শীর্ষক প্রশিক্ষণধর্মী প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এতে রাজশাহী থেকে রাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ এবং বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিচ্ছেন। তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের জন্য সংলাপটির আয়োজন করে রাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন রাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হোসেন বকুল। তিনি বলেন, ‘বর্তমান ডিজিটাল পরিবেশে মানুষ প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তথ্যের মুখোমুখি হচ্ছে। তবে তথ্যের সহজপ্রাপ্যতা সবসময় সত্যের নিশ্চয়তা দেয় না। তাই তরুণদের সমালোচনামূলক চিন্তা, তথ্য যাচাই, ভুল তথ্য শনাক্তকরণ, ডিজিটাল সাক্ষরতা ও দায়িত্বশীল যোগাযোগের দক্ষতা অর্জন জরুরি। ‘ইয়ুথ কানেক্ট’ প্রকল্প এ দক্ষতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। রাবির ৬০ জন শিক্ষার্থী এ প্রকল্পের প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন। তাদের চারটি দলে ভাগ করে বিভিন্ন কমিউনিটির জন্য ‘কমিউনিটি অ্যাকশন প্ল্যান’ তৈরি করা হয়েছে। আবাসিক হলের শিক্ষার্থী, ক্যাম্পাসের সহায়ক কর্মী, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাবের সদস্য এবং আশপাশের কমিউনিটির তরুণদের নিয়ে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।’

এরপর পুরো প্রজেক্ট নিয়ে ইউল্যাবের পক্ষে রিয়াজ উদ্দিন, রাবির পক্ষে ড. নাজিয়াত হোসেন চৌধুরী ও বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে সাজ্জাত হোসেন প্রেজেন্টেশন দেন।

অনুষ্ঠানে রাবির পক্ষে প্রজেক্টের ফ্যাসিলিটেটর অধ্যাপক নাজিয়াত হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬০ শিক্ষার্থীকে দুইটি দলে ভাগ করা হয়েছিল। তারা প্রশিক্ষণে পাওয়া জ্ঞান নিয়ে বিভিন্ন কমিউনিটির কাছে গিয়ে কাজ করেছে। প্রথম দল চারটি আবাসিক হলের নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করে এবং ৭০ জনের বেশি শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছায়। অনলাইনে নারী শিক্ষার্থীরা বেশি হুমকি ও হয়রানির শিকার হওয়ায় দলটি তাদের নিয়ে কাজ করে। দ্বিতীয় দল ক্যাম্পাসের সহায়ক কর্মীদের নিয়ে কাজ করে। তারা পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ডাইনিং কর্মীসহ ৭৫ জন কর্মীর কাছে পৌঁছে অনলাইনে ক্ষতিকর কনটেন্ট শেয়ার না করার বিষয়ে কাজ করে।’

লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ বিভাগের মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডি এম সুমন রহমান বলেন, ”অপতথ্যের বিরুদ্ধে ফ্যাক্টচেকিং যথেষ্ট নয়; মানুষ ও শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল পরিসর সম্পর্কে সচেতন ও ডিজিটাল লিটারেট হতে হবে। এ কারণেই ডিজিটাল লিটারেসি কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবারের ডিজিটাল লিটারেট হওয়া প্রয়োজন। ‘ইয়ুথ কানেক্ট’ প্রকল্পের শিক্ষার্থীরা তাদের কমিউনিটি অ্যাকশন প্রজেক্টের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান কমিউনিটিতে ছড়িয়ে দিচ্ছে, কারণ প্রত্যন্ত এলাকার মানুষও অপতথ্যের ঝুঁকিতে রয়েছে এবং তাদেরও এ ধরনের ডিজিটাল লিটারেসি প্রয়োজন।’

উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুনুর রশীদ বলেন, ‘আমাদের প্রশাসন একটি এমন একাডেমিক পরিবেশ তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে শেখা, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা ও অনুসন্ধানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা যাতে জ্ঞানকে এগিয়ে নিতে এবং উদ্ভাবনে ভূমিকা রাখতে প্রয়োজনীয় সম্পদ, সুযোগ-সুবিধা ও সুযোগ পান, তা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি। ব্রিটিশ কাউন্সিল ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগকে ধন্যবাদ, এ ধরণের আয়োজন ভবিষ্যতেও হবে বলে আমি আশাবাদী।’

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রিটিশ কাউন্সিলের সিইও স্কট ম্যাকডোনাল্ড বলেন, ‘তথ্যের সুযোগ পাওয়াই যথেষ্ট নয়; কোন তথ্য বিশ্বাস করা যায়, তা যাচাই করে দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তরুণদের কণ্ঠস্বর ও তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়ালেও ভুয়া তথ্য ও অনলাইন ম্যানিপুলেশনের ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই ‘ইয়ুথ কানেক্ট’ প্রকল্পের মাধ্যমে তরুণদের সমালোচনামূলক চিন্তা ও তথ্য যাচাইয়ের দক্ষতা তৈরি করা হচ্ছে। অপতথ্যের বিরুদ্ধে সহনশীলতা গড়ে তোলা শুধু সরকার, সাংবাদিক বা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নয়, সবার দায়িত্ব।’

অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব বেলা ১১টা পর্যন্ত চলে। এরপর একই ভবনের চতুর্থ তলায় প্রকৌশল অনুষদের কনফারেন্স কক্ষে সংলাপের দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রকল্পে প্রশিক্ষিত নির্বাচিত তরুণ শিক্ষার্থী ও প্রশিক্ষক শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা শোনেন স্কট ম্যাকডোনাল্ড। এতে প্রকল্পের ১০ জন প্রশিক্ষণার্থী ও চারজন প্রশিক্ষক অংশ নেন। এ সময় রাবির পক্ষে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি, ফ্যাসিলিটিটেটরবৃন্দ ছাড়াও ব্রিটিশ কাউন্সিল ও ইউল্যাবের শিক্ষক-কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়।

এতে উপস্থিত ছিলেন রাবির উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশিদ এবং ইউল্যাবের মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডি এম সুমন রহমান। এ ছাড়া ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের ডেপুটি ডিরেক্টর মারিয়া রেহমানসহ প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য কর্মকর্তা, রাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. নাজিয়াত হোসেন, অধ্যাপক মো. খাদেমুল ইসলাম, অধ্যাপক মশিহুর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক কাজী মামুন হায়দার ও মামুন আব্দুল কাইউম, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাজ্জাত হোসেন ও মুহাম্মদ রাকিব হোসাইন এবং ইউল্যাবের মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক রিয়াজ উদ্দিন খান।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর