Friday 02 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

চুরি হওয়া ১৫ ভরি স্বর্ণ ও ২২০ ভরি রূপার গহনা উদ্ধার, কর্মচারী গ্রেফতার

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১ অক্টোবর ২০২৬ ২০:২৫

রাজবাড়ী: জেলার পাংশায় জুয়েলারি দোকান থেকে চুরি হওয়া ১৫ ভরি ১.৫৮ আনা স্বর্ণালংকার ও ২২০ ভরি রৌপ্যালংকার উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই দোকানের কর্মচারী খন্দকার জায়ফুল ইসলাম লিটন (৫৯)-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন।

পুলিশ জানায়, একই দিন ভোর ৫টার দিকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোনাবাড়ী মধ্যপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে জায়ফুল ইসলাম লিটনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চুরি হওয়া স্বর্ণ ও রৌপ্যালঙ্কারের একটি অংশ উদ্ধার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

গ্রেফতার জায়ফুল পাংশা উপজেলার বাবুপাড়া গ্রামের মৃত খন্দকার আব্দুল জলিলের ছেলে। তিনি পাংশা উপজেলার নারায়ণপুর দত্ত মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ‘নিউ মুসলিম জুয়েলার্স’-এর কর্মচারী ছিলেন।

পুলিশ সুপার জানান, গত ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুর আড়াইটা থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার মধ্যে ‘নিউ মুসলিম জুয়েলার্স’-এ চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দোকান মালিক শহিদুল ইসলাম গত ৩০ সেপ্টেম্বর পাংশা মডেল থানায় মামলা করেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, দোকান থেকে ২০টি স্বর্ণের আংটি, ১৬ জোড়া কানের দুল, ২০ জোড়া পাশা দুল, চারটি গলার হার ও ১০টি স্বর্ণের চেইনসহ প্রায় ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার, ২০০ ভরি রৌপ্যালংকার এবং নগদ দুই লাখ টাকা চুরি হয়। চুরি হওয়া মালামালের মোট মূল্য প্রায় ৬৫ লাখ টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, দোকানের কর্মচারী জায়ফুল ইসলাম লিটন অপর এক ব্যক্তির সহযোগিতায় পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটান। পাওনা টাকা তুলে দেওয়ার কথা বলে দোকান মালিককে জলিলপাড়া এলাকায় নিয়ে গিয়ে রসমালাইয়ের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ানো হয়। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তার পকেট থেকে দোকানের চাবি নিয়ে নেন লিটন।

পরে তিনি দোকানে ফিরে গিয়ে অপর এক কর্মচারীকে কৌশলে বাইরে পাঠিয়ে আলমারি খুলে স্বর্ণ, রুপার গহনা ও নগদ টাকা নিয়ে যান। এরপর দোকানের চাবি আবার মালিকের পকেটে রেখে তাকে দত্ত মার্কেট মোড়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।

পুলিশ সুপার আরও জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে পাংশা থানার একটি দল গাজীপুরের কোনাবাড়ী মধ্যপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতার জায়ফুলের দেখানো স্থান থেকে ৩০টি স্বর্ণের আংটি, ১১টি চেইন, একটি সীতাহার, তিনটি পল, একটি চান, ২৬ জোড়া কানের দুল ও একটি ব্রেসলেটসহ মোট ১৫ ভরি ১.৫৮ আনা স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। এসব স্বর্ণালংকারে আনুমানিক মূল্য ৩৩ লাখ ২১ হাজার টাকা।

এছাড়া ৫৮ জোড়া নুপুর, ৩৭টি চেইন, ছয়টি বাজু, চারটি ব্রেসলেট, ১৬ জোড়া হাতের চুড়ি, ৩২টি তাবিজ, ১৯ জোড়া কানের দুল ও ১৩টি চানসহ মোট ২২০ ভরি রৌপ্যালংকার উদ্ধার করা হয়। এসব রৌপ্যালঙ্কারের আনুমানিক মূল্য ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন বলেন, ‘গ্রেফতার জায়ফুল ইসলাম লিটনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত অপর আসামি ও সহযোগীদের গ্রেফতারের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে ডিআইও-১ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম, জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি মফিজুল ইসলাম-সহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর