ঢাকা: রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রি-শিপমেন্ট ঋণ সুবিধা বাড়াতে পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আকার বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য রফতানি সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন তহবিলের (ইএফপিএফ) ২ হাজার কোটি টাকা প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে স্থানান্তর করা হয়েছে। ফলে এ স্কিমের আওতায় পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের পরিমাণ বেড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা হয়েছে। একই সঙ্গে ইএফপিএফ-এর বর্তমান তহবিল ৩ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ এ-সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে। এতে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিটের মাধ্যমে ঋণ সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের রফতানি কার্যক্রম অব্যাহত রাখা, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনার লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল দিয়ে গঠিত ১০ হাজার কোটি টাকার ইএফপিএফ থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার কোটি টাকা প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিটের জন্য পুনঃঅর্থায়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এই খাতে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা ২ হাজার কোটি টাকা বাড়ল।
নতুন ঋণ সুবিধার সুদহারও নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গ্রাহক পর্যায়ে প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিটের সুদহার সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ হবে। আর অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো (পিএফআই) বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া পুনঃঅর্থায়ন সুবিধার বিপরীতে ৩ শতাংশ হারে সুদ দেবে।
এ ছাড়া কোনো অংশগ্রহণকারী ব্যাংক নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ হলে, যত সময় বকেয়া থাকবে, ওই সময়ের জন্য ব্যাংক রেট অনুযায়ী সুদ দিতে হবে।
প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় ব্যাংকগুলো যে পুনঃঅর্থায়ন নেবে, তার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সম্পূর্ণ পরিশোধ অথবা আংশিক সমন্বয় করার সুযোগ থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আগের নির্দেশনার অন্যান্য বিষয় অপরিবর্তিত থাকবে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে।