Sunday 08 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

রমজান সামনে রেখে নিত্যপণ্য আমদানি সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৮ নভেম্বর ২০২৬ ১৬:০৬

ঢাকা: রমজান মাস সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় ১০ ধরনের ভোগ্যপণ্য আমদানিতে নগদ মার্জিন (ক্যাশ মার্জিন) সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত এ আদেশ বলবৎ থাকবে। ব্যাংক ও গ্রাহকের সম্পর্কের ভিত্তিতে এসব পণ্য আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রে মার্জিন নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ বাজারে এসব পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এলসি খোলার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বাংলা‌দেশ ব্যাংক।

রোববার (৮ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সার্কুলারে বলা হয়েছে, আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে চাল, গম, পেঁয়াজ, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মটর, মসলা ও খেজুরের চাহিদা বাড়বে। এ অবস্থায় এসব পণ্যের আমদানি সহজ করার মাধ্যমে বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের হা‌তের নাগা‌লের মধ্যে রাখতে নগদ মার্জিন সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, চাল, গম (আটা), পেঁয়াজ, ডাল, ভোজ্যতেল (সয়াবিন ও পাম অয়েল), চিনি, ছোলা, মটর, মসলা ও খেজুর আমদানির ক্ষেত্রে ব্যাংকার,গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে নগদ মার্জিনের হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখতে হবে। অর্থাৎ এসব পণ্য আমদানির জন্য এলসি খুলতে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বেশি হারে নগদ অর্থ জমা নেওয়ার পরিবর্তে ব্যাংক ও গ্রাহকের সম্পর্ক বিবেচনায় নিয়ে মার্জিন নির্ধারণ করতে হবে।

এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ বাজারে উল্লিখিত পণ্যগুলোর সরবরাহ নিশ্চিত করতে এলসি খোলার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বাংলা‌দেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে রমজানের আগে প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি বাড়ানো এবং সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সার্কুলারে আগের নির্দেশনার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর জারি করা বিআরপিডি সার্কুলার লেটার নম্বর-৪১-এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের আমদানি ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ নগদ মার্জিন সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর জারি করা বিআরপিডি সার্কুলার লেটার নম্বর-২৪-এর মাধ্যমে পবিত্র রমজান মাসের চাহিদা বিবেচনায় কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য আমদানিতে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে নগদ মার্জিনের হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। ওই নির্দেশনার কার্যকারিতা ছিল ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত।

এবার আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে নতুন করে একই ধরনের নির্দেশনা জারি করল বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনার ফলে আমদানিকারকেরা সংশ্লিষ্ট পণ্য আমদানির জন্য এলসি খোলার ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম নগদ মার্জিন সুবিধা পাবেন। এতে আমদানির জন্য ব্যবসায়ীদের প্রাথমিক নগদ অর্থের চাপ কমার সুযোগ তৈরি হবে।

সাধারণত আমদানি ঋণপত্র খোলার সময় ব্যাংক আমদানিকারকের কাছ থেকে পণ্যের মূল্য বা এলসির বিপরীতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ নগদ মার্জিন হিসেবে জমা নেয়। মার্জিনের হার বেশি হলে আমদানিকারকের নিজস্ব মূলধনের প্রয়োজন বাড়ে। অন্যদিকে মার্জিন কম হলে ব্যবসায়ীরা তুলনামূলক কম নিজস্ব অর্থ দিয়ে আমদানি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন।

বিজ্ঞাপন

‘যকের ধন’-এর ‘যক’ কারা!
৮ নভেম্বর ২০২৬ ১৬:০৫

আরো

সম্পর্কিত খবর