Friday 02 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মামলা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২ অক্টোবর ২০২৬ ১২:৪৯ | আপডেট: ২ অক্টোবর ২০২৬ ১৩:২৩

জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান।

ঢাকা: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং বিমানবন্দরের শীর্ষ কর্মকর্তা ও নিরাপত্তাকর্মীদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় মামলাটি করেন।

এ বিষয়ে বিমানবন্দর পুলিশ জানিয়েছে, সরকারি কর্মচারীকে দায়িত্ব পালনে বাধা, মারধর, হুমকি প্রদান ও অশালীন আচরণের অভিযোগে দণ্ডবিধির ১৮৬, ১৮৯, ২৯৪, ৩২৩, ৩৫২, ৩৫৩, ৫০৪ ও ৫০৬ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে আইনগত তদন্ত শুরু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১ অক্টোবর মদিনা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট (BG-338) যোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন প্রতিনিধি সপরিবারে ঢাকায় আগমন করেন। যাত্রীরা ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে ৮ নম্বর ল্যাগেজ বেল্ট এলাকায় যান। এ সময় যাত্রীর অতিরিক্ত চাপে ট্রলি সংগ্রহের ক্ষেত্রে সংকট সৃষ্টি হয় এবং ট্রলি সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। তখন কয়েকজন প্রটোকল সহকারী লাইনের নিয়ম ভঙ্গ করে ট্রলি সংগ্রহের চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে লাগেজ আসতে বিলম্ব হওয়া এবং জমজমের পানি না আসাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি উত্তেজিত ও অশোভন আচরণ করতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের আমন্ত্রণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

এ সময় সাবেক সাংসদ ও মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান উত্তেজিত হয়ে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তিনি তাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া এবং মারধরের হুমকি দেন। পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন নির্বাহী পরিচালককে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়ে যান।

পরবর্তীতে মেজর (অব:) আখতারুজ্জামান পুনরায় উত্তেজিত হয়ে হুমকি প্রদান করে বলেন, ‘আপনাদের সবাইকে বিমানবন্দরে বেঁধে পিটানো এবং সোশাল মিডিয়ায় দেওয়া দরকার যাতে তারেক রহমান এটি দেখেন, তখন আপনারা সোজা হবেন। আপনাদের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেব।’ এছাড়াও তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সম্পর্কে অত্যন্ত অশালীন ভাষা ব্যবহার করে গালাগালি করেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, আসামি আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা কতিপয় প্রটোকল সহকারী বিমানবন্দরে ভিডিও ধারণ করতে থাকলে সংরক্ষিত এলাকা হওয়ায় তাতে বাধা দেন নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আখতারুজ্জামান উক্ত নিরাপত্তা কর্মকর্তা ওয়ারেন্ট অফিসার কামাল উদ্দিনের ওপর চড়াও হন, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে আঘাত ও মারধর করেন। এ ছাড়া তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধি এবং সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন এবং অন্যদের ট্রলিতে রাখা জমজমের পানির বোতল ছুড়ে ফেলে দিয়ে ক্ষতি সাধন করেন।

এ ঘটনার বিষয়ে থানায় দায়ের করা মামলায় এজাহারকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা, সংবেদনশীল এলাকায় মারমুখী পরিবেশ সৃষ্টি এবং দায়িত্বরত নিরাপত্তা সদস্যকে আঘাত করার অপরাধে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর