ঢাকা: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ক্যানোপি-২ এলাকায় নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে দর্শনার্থীদের হাতাহাতি ও বিশৃঙ্খলার প্রকৃত চিত্র সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় বেরিয়ে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি আংশিক ভিডিও ঘিরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলেও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তাবিধি না মেনে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি থেকে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মাদ কাউছার মাহমুদ এ তথ্য জানিয়েছেন।
বেবিচকের তথ্যমতে, গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত আনুমানিক ১২টা ৫২ মিনিটে ক্যানোপি-২ এক্সিট গেটের বাইরে এই ঘটনা ঘটে। আগমন করা এক যাত্রীকে নিতে আসা একজন পুরুষ সহযাত্রী ক্যানোপি-২ এর নির্ধারিত ‘এক্সিট গেট’ (বহির্গমন পথ) দিয়ে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা তাকে ভেতরে প্রবেশ না করার অনুরোধ জানান এবং বাধা দেন। বাধা সত্ত্বেও ওই ব্যক্তি বারবার জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা করলে আরেকজন আনসার সদস্য তাকে নিবৃত্ত করতে এগিয়ে আসেন। এ সময় ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে তিনি ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান। তখন সঙ্গে থাকা অন্য ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং আনসার সদস্যদের সঙ্গে তাদের ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি শুরু হয়।
মুহাম্মাদ কাউছার মাহমুদ বলেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত একজন ব্যক্তি সংঘর্ষের অংশটি মোবাইল ফোনে ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নানা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে। পুরো সিসিটিভি ফুটেজে পূর্বাপর পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নিরাপত্তাকর্মীরা কেবল বিমানবন্দরের প্রবেশ ও বহির্গমন শৃঙ্খলা রক্ষাতেই দায়িত্ব পালন করছিলেন। একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। খণ্ডিত ভিডিও দেখে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সংবেদনশীলতা রক্ষায় নির্ধারিত বিধি মেনে চলা অপরিহার্য। যেকোনো তথ্য বা ভিডিও প্রচারের আগে পূর্ণ প্রেক্ষাপট যাচাই না করলে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্থাপনার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে।