ঢাকা: বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করা বায়ুদূষণের শীর্ষে অবস্থান করছে প্রতিবেশী ভারতের রাজধানী দিল্লি, যেখানে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা রয়েছে তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) সর্বশেষ লাইভ তথ্যসূচক থেকে বৈশ্বিক বায়ুদূষণের এই উদ্বেগজনক চিত্র জানা গেছে। বিশেষ করে বাতাসে ভাসমান ক্ষতিকর ধূলিকণা ও ধোঁয়াশার মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় মেঘলা আবহাওয়ার মধ্যেই মেগাসিটি ঢাকার বাতাস জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম মারাত্মক হয়ে উঠেছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল দশটা থেকে ১১টার সময়ের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী এই বিশ্ব অবস্থান তালিকাটি প্রকাশ করা হয়। সকাল আটটা ১০ মিনিটে পূর্বে প্রকাশিত প্রাথমিক তথ্যে ঢাকা তিন নম্বরে থাকলেও সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বায়ুর মানের অবনতি ঘটে তা ১৭৩ স্কোরে পৌঁছে দ্বিতীয় অবস্থানে নেমে আসে। অন্যদিকে শীর্ষে থাকা ভারতের দিল্লি শহরের দূষণ স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে ১৭৭, যা আইকিউএয়ারের মানদণ্ডে স্বাস্থ্যঝুঁকির লাল জোনে অবস্থান করছে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বায়ুদূষণ সূচকের স্কোর শূন্য থেকে ৫০ এর মধ্যে থাকলে তাকে ভালো বাতাস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। স্কোর ৫১ থেকে ১০০ হলে বাতাস সহনীয় বা মাঝারি, ১০১ থেকে ১৫০ হলে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত স্কোর হলে স্বাভাবিক মানুষের জন্যই তা অস্বাস্থ্যকর বাতাস হিসেবে গণ্য করা হয়। অপরদিকে স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে বাতাসকে খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১ এর বেশি হলে তা দুর্যোগপূর্ণ বা বিপজ্জনক বাতাস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।
আইকিউএয়ারের এই মানদণ্ডে দিল্লি ও ঢাকার দূষণ স্কোর স্থান পেয়েছে ১৫১ থেকে ২০০ এর মধ্যবর্তী অস্বাস্থ্যকর ক্যাটাগরিতে। বায়ুমণ্ডলে বিষাক্ত ধূলিকণার আধিক্য বৃদ্ধি পাওয়ায় শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে উন্মুক্ত স্থানে চলাচলের ক্ষেত্রে মাস্ক ব্যবহারের পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা এবং ঢাকার রাস্তায় পানি ছিটানোর মতো জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশবিদরা।