ঢাকা: রাজধানীর রামপুরা এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজি ও পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী মো.আল-আমিন ওরফে পিচ্চি আল-আমিনের তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। এঘটনায় এর আগে আল-আমিনসহ তার দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করেছিল সংস্থাটি। এ নিয়ে এ ঘটনায় মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করে বাহিনীটি। পিচ্চি আল-আমিনের গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠি জেলায়। সে বরগুনা ও ঝালকাঠি অঞ্চলের সমমনাদের ঢাকায় এনে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করতো।
রোববার (৪ অক্টোবর) বিকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সন্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।
আল-আমিন কোনো গ্যাংয়ের প্রধান কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, আল আমিনের বাড়ি ঝালকাঠিতে। আমরা তার পাঁচ সহযোগীকে গ্রেফতার করেছি। তাদের চার জনের বাড়ি একই জেলায় এবং একজনের বাড়ি বরগুনাতে। আমরা এনালাইসিস করে দেখলাম, আল-আমিন তার সমমনা বা যাদেরকে সঠিক মনে করেছেন সমগোত্রীয় তাদেরকে ঢাকায় এনে এই অপরাধ কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।
আল-আমিন রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা ২০১১ সাল থেকে প্রতিটি সরকারের আমলে তার নামে মামলা পেয়েছি। তার মানে তিনি স্বভাবগত অপরাধী। যেই দলই ক্ষমতায় আসুক তারা সেই সুযোগটা হয়তো তার মাধ্যমে নিতেও পারে। বাট উনি নিজেই নিজের গুণে গুণান্বিত। তবে আল-আমিনকে গ্রেফতারে রামপুরা এলাকার মানুষ খুশি হয়েছে বলেও জানান এসআরবি-৩ এর অধিনায়ক।
এ সময় উপস্থিত থেকে এসআরবি’র আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, গত ১ অক্টোবর দুপুর দেড়টায় রামপুরা থানাধীন টিভি রোড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে পিচ্চি আল-আমিন ও তার ২ সহযোগী কামাল উদ্দিন এবং খাইরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১টি বিদেশি রিভলবার এবং ৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, গ্রেফতার পিচ্চি আল আমিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন সন্ধ্যা ৬ টার সময় রাজধানীর রামপুরা থানাধীন কুঞ্জবন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তার অপর ২ জন সহযোগী মো. সোহাগ হাওলাদার ওরফে মামুন এবং মো. রিফাত ইসলামকে ২টি দেশীয় অস্ত্র (লোহার তৈরি ছুরি) সহ গ্রেফতার করা হয়।
তিনি আরও জানান, গ্রেফতার আল আমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে, তার অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. কাওছার খানের কাছে আরও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। ওই তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় কাওছারের অবস্থান শনাক্ত করে ৩ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রামপুরা থানাধীন কুঞ্জবন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খিলগাঁও থানাধীন ভূঁইয়াপাড়া জনৈক শফিকের টিনশেড ঘরের ভেতর থেকে একই দিন রাত সাড়ে ৮টায় ১টি বিদেশি রিভলভার, ১টি বিদেশি পিস্তল এবং ১টি ম্যাগাজিনসহ ৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, গ্রেফতার পিচ্চি আল আমিন সন্ত্রাসী ইয়াছিন খান পলাশ ওরফে কাইল্লা পলাশ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। তার নামে রাজধানীর খিলগাঁও, রামপুরা, হাতিরঝিল ও গুলশান থানায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইন, হত্যা ও অস্ত্র মামলাসহ সর্বমোট ২৭টি মামলা রয়েছে। তবে গ্রেফতারকৃত অপর আসামিদের নামে থানায় কোন মামলা পাওয়া যায়নি বলেও জানান এই কর্মকর্তা।