বান্দরবান: বান্দরবানের লামা উপজেলায় বিভিন্ন সময়ে বন্যহাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত ৬৬টি পরিবারের মাঝে সরকারি আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) লামা বন বিভাগের আয়োজনে এসব চেক বিতরণ করা হয়। সভায় বন্যহাতি ও মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করা, হাতির আবাসস্থল সংরক্ষণ এবং হাতি-মানুষের সংঘাত কমাতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান বন সংরক্ষক মো.আমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন,ভবিষ্যতে হাতির আক্রমণে মানুষের মৃত্যু হলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিতে যেন আসতে না হয়, সেজন্য মানুষ ও হাতির মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, বন্যহাতি ও মানুষের মধ্যে সংঘাত কমাতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। হাতির স্বাভাবিক বিচরণক্ষেত্র ও আবাসস্থল সংরক্ষণের পাশাপাশি মানুষের জানমাল রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বন্যহাতি বাংলাদেশের প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় হাতির আবাসস্থল ও চলাচলের করিডোর সংরক্ষণ জরুরি। একই সঙ্গে হাতির আক্রমণে মানুষের প্রাণহানি, বসতবাড়ি ও কৃষিজমির ক্ষয়ক্ষতি রোধে বন বিভাগ, প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দে, লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন ও লামা থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ কাইছার হামিদ।
পরে বন্যহাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত ৬৬টি পরিবারের সদস্যদের হাতে মোট ২১ লাখ ৫৯ হাজার টাকার সরকারি আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়।
সরকারি সহায়তা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।