Monday 05 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ট্রাইব্যুনালে স্ত্রীর জবানবন্দি / ‘আমার স্বামীর মাথায় গুলি চালিয়ে হত্যা করে পুলিশ ও বিজিবি’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৫ অক্টোবর ২০২৬ ১৮:১২ | আপডেট: ৫ অক্টোবর ২০২৬ ১৮:২৩

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে রাজধানীর রামপুরায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত আমির হোসেন (ইনসেটে)-এর পরিবার – ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় আমির হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা গুলি করে হত্যা করেছেন বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন তার স্ত্রী।

তার ভাষ্য, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুমার নামাজের পর আন্দোলনে যোগ দেন আমির হোসেন। আন্দোলনের একপর্যায়ে রামপুরার একরামুন্নেছা স্কুলের সামনে পৌঁছালে তার মাথার পেছন দিয়ে গুলি ঢুকে চোয়াল দিয়ে বেরিয়ে যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে সড়কেই তার মৃত্যু হয়।

সোমবার (৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে আমির হোসেনের স্ত্রীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে সাক্ষীর নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

বিজ্ঞাপন

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিজিবির কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চার আসামির বিরুদ্ধে তিনি ১৪ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে আমির হোসেনের স্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুমার নামাজ পড়তে বাসা থেকে বের হন তার স্বামী। নামাজ শেষে তিনি আন্দোলনে যোগ দেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হাসান নামে এক ব্যক্তি তার বাড়িওয়ালাকে ফোন করে জানান, রামপুরার একরামুন্নেছা স্কুলের সামনে আমির হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। খবর পেয়ে তার বাবা ও ভাই তাকে দেখতে রামপুরার বেটার লাইফ হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন।

তবে তারা হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই এলাকার লোকজন আমিরকে বাসায় নিয়ে আসেন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে সড়কেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানতে পারেন তিনি।

আদালতে আমিরের স্ত্রী বলেন, তিনি তার স্বামীকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখেছেন। একটি গুলি তার মাথার পেছন দিয়ে ঢুকে চোয়াল দিয়ে বেরিয়ে যায় বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

তার অভিযোগ, পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা তার স্বামীকে গুলি করেন। এ ঘটনায় বিজিবির রেদোয়ান ও রাফাত এবং পুলিশ কর্মকর্তা মশিউর রহমান ও রাশেদুল ইসলামের নাম উল্লেখ করেন তিনি। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, স্বামীর হত্যার সুষ্ঠু বিচার চান তিনি।

এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেলে রয়েছেন বিজিবির লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলাম ও মেজর মো. রাফাত বিন আলম।

পলাতক আসামিরা হলেন—ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে জবানবন্দি গ্রহণে ছিলেন প্রসিকিউটর মামুনুর রশিদ। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর মার্জিনা রায়হান, মঈনুল করিমসহ অন্য প্রসিকিউটররা।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরা এলাকায় ২৮ জন নিহত হন এবং আহত হন আরও অনেকে।

এসব ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তদন্ত শুরু করে তদন্ত সংস্থা। তদন্ত শেষে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলাম, মেজর মো. রাফাত বিন আলম, মো. রাশেদুল ইসলাম ও মো. মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।মামলাটিতে আমির হোসেনের স্ত্রীকে ১৪ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি নেওয়া হলো।