Tuesday 06 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

দূষণ শীর্ষে ঢাকা, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে নগরবাসী

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৬ অক্টোবর ২০২৬ ১০:০২

ছবি সংগৃহীত।

ঢাকা: মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালটা শুরুই হলো ধোঁয়াশা আর বিষাক্ত বাতাসের তীব্র দাপট নিয়ে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের (IQAir) তাজা তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবকটি বড় শহরের মধ্যে দূষণের তালিকায় শীর্ষ স্থানটি দখল করেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা।

এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা একিউআই (AQI) স্কেলে ঢাকার বাতাসে দূষণের মাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৪৬, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ (Very Unhealthy) ক্যাটাগরিতে পড়ে। বিগত দুইদিন ঢাকার অবস্থান শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও, মঙ্গলবারের সকালে সেই দূষণ আরও বেড়ে গিয়ে ঢাকার নাম তালিকার সর্বপ্রথমে ঠেলে দিয়েছে। বায়ুমান সূচকের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী, শূন্য থেকে ৫০ ভালো, ৫১ থেকে ১০০ সহনীয়, ১০১ থেকে ১৫০ সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর, ১৫১ থেকে ২০০ অস্বাস্থ্যকর, ২০১ থেকে ৩০০ খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১-এর বেশি স্কোরকে মারাত্মক বা বিপজ্জনক বিবেচনা করা হয়। সে হিসেবে ২৪৬ স্কোর নিয়ে ঢাকার বাতাস নগরবাসীর প্রতিটি নিঃশ্বাসের সাথে ফুসফুসে ছড়িয়ে দিচ্ছে বিষের বাষ্প।

বিজ্ঞাপন

আইকিউএয়ারের বৈশ্বিক দূষণ সূচকে শীর্ষ তিন শহরের মধ্যে ঢাকা ২৪৬ স্কোর নিয়ে ১ নম্বর র‍্যাংকিংয়ে রয়েছে। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে ভারতের কলকাতা শহর, যার একিউআই স্কোর ১৮৭। আর ১৮৬ স্কোর নিয়ে বিশ্বের তৃতীয় বিষাক্ত বাতাসের শহরের তালিকায় স্থান পেয়েছে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর। ভারতের কলকাতা ও মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের বাতাসের মান ‘অস্বাস্থ্যকর’ সূচকে থাকলেও, ঢাকাকে স্পর্শ করতে হয়েছে রক্তবর্ণের চরম মাত্রা ছাড়ানো ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ ক্যাটাগরি।

রাজধানীর বাতাসের এমন আশঙ্কাজনক অবনতির পেছনে বেশ কিছু দীর্ঘমেয়াদি ও নিয়ন্ত্রণহীন কারণকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। ঢাকায় বছরের পর বছর ধরে অপরিকল্পিত ও অনিয়ন্ত্রিত অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নির্মাণকাজ চলছে। রাস্তাঘাট খোঁড়াখুঁড়ি, বহুতল ভবন নির্মাণে খোলা অবস্থায় ইট-বালি ও সিমেন্ট পরিবহনের কারণে বাতাসে ভাসমান ধূলিকণার মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যায়। এর পাশাপাশি রাজধানীর আশপাশের ইটভাটাগুলোর নির্গত বিষাক্ত কালো ধোঁয়া, ফিটনেসবিহীন ও পুরোনো যানবাহন থেকে নির্গত সালফার ও ক্ষতিকর গ্যাস এবং নিয়ন্ত্রণহীন কঠিন বর্জ্য বা পলিথিন পোড়ানোকে ঢাকার বায়ুদূষণের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শুষ্ক মৌসুম এলেই আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে বাতাস ভারী হয়ে এসব ক্ষতিকর কণা নিচের দিকে জমে থাকে, যা মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাসের সাথে সরাসরি ফুসফুসে প্রবেশ করছে।

পরিবেশবিদরা ঢাকার এই বিপর্যয়কে নিছক আবহাওয়ার পরিবর্তন নয়, বরং প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নজরদারির অভাব হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বাতাস বারবার বিপজ্জনক বা খুবই অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে পৌঁছে গেলেও সরকারি দপ্তরগুলোর পরিবেশ সুরক্ষায় দৃশ্যমান কোনো সমন্বিত পদক্ষেপ দেখা যায় না। নিয়মিত বিরতিতে রাস্তায় পানি ছিটানো, খোলা অবস্থায় নির্মাণসামগ্রী রাখার ওপর কঠোর জরিমানা এবং অবৈধ ও বিষাক্ত ধোঁয়া ছাড়া ইটভাটা ও গাড়ি বন্ধে জরুরি আইন প্রয়োগ করা না হলে সামনে ঢাকার বাতাস মানবদেহের জন্য স্থায়ী বিষে রূপ নেবে। প্রতি বছর বায়ুদূষণের কারণে কোটি কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি ঢাকার নগরবাসীর গড় আয়ু কমছে আশঙ্কাজনক হারে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই অবস্থায় শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টের রোগীদের প্রতি বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন। দীর্ঘ সময় দূষিত বাতাসে অবস্থান করলে অ্যাজমা, ব্রংকাইটিস, হৃদ্‌রোগ ও ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি চরম আকার ধারণ করে। চিকিৎসকদের মতে, সকালের দিকে বা খুব প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। বিশেষ করে জরুরি কাজে বাইরে বের হলে উন্নতমানের এন-৯৫ (N95) বা মানসম্মত মাস্ক পরিধান করা বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ঘরে বাতাস চলাচলের স্বাভাবিক ব্যবস্থা রাখা এবং বাইরে থেকে ফিরে মুখ-হাত ভালোভাবে ধুয়ে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। নগরবাসীকে বায়ুদূষণ থেকে রক্ষায় ব্যক্তি সচেতনতার পাশাপাশি ঢাকা শহরকে ধূলিমুক্ত করতে রাজউক, সিটি করপোরেশন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে অবিলম্বে সুনির্দিষ্ট জরুরি ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে।

 

সারাবাংলা/এফএন/ এএ
বিজ্ঞাপন

আজ বিদুৎ থাকবেনা যেসব এলাকায়
৬ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:৫৭

আরো

সম্পর্কিত খবর