যবিপ্রবি: উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষাছুটি নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শতাধিক শিক্ষক। নির্ধারিত সময় শেষে তাদের অনেকেরই দেশে ফিরে কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা। তবে ছুটির মেয়াদ শেষ হলেও ২৩ জন শিক্ষক এখনও কর্মস্থলে ফেরেননি। এতে একদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে এসব শিক্ষকের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা অর্থও আটকে রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, যবিপ্রবিতে বর্তমানে শিক্ষক রয়েছেন প্রায় সাড়ে চারশো। এর মধ্যে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য শিক্ষাছুটি নিয়ে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন প্রায় ১০০ শিক্ষক। তাদের মধ্যে ২৩ জনের শিক্ষাছুটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তারা কর্মস্থলে যোগ দেননি।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষাছুটি নিয়ে বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষকরা বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। নির্ধারিত সময় শেষে কর্মস্থলে ফিরে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি তাদের ওপর ন্যস্ত। কিন্তু ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কেউ কেউ ফিরে না আসায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে শিক্ষক সংকট। কোনো কোনো বিভাগে একজন শিক্ষককে অতিরিক্ত ক্লাস ও একাধিক কোর্সের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের ওপর।
এদিকে বিপুলসংখ্যক শিক্ষক দীর্ঘদিন শিক্ষাছুটিতে থাকায় বিভিন্ন বিভাগে স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় নিয়মিত ক্লাস নেওয়া, পরীক্ষা আয়োজন এবং নির্ধারিত সময়ে সিলেবাস শেষ করা নিয়ে তৈরি হচ্ছে জটিলতা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক সময় নিয়মিত ক্লাস হয় না। ফলে নির্ধারিত সময়ে কোর্স শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে। উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষকরা বাইরে যাবেন, এটি স্বাভাবিক বিষয় হলেও নির্ধারিত সময় শেষে তাদের কর্মস্থলে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করেন তারা।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার সুযোগ, আধুনিক গবেষণাগার, অর্থায়ন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। বিপরীতে বিদেশে গবেষণার পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা তুলনামূলক ভালো হওয়ায় অনেক শিক্ষক সেখানে থেকে যেতে আগ্রহী হন। এছাড়া ফিরতে চাইলেও পারিবারিক চাপ, উন্নত জীবনযাপনসহ নানা কারণে থেকে যাচ্ছেন কেউ কেউ। ফলে শিক্ষাছুটি শেষে দেশে না ফেরার প্রবণতা তৈরি হচ্ছে। ছুটি শেষে শিক্ষকরা যাতে বাধ্যতামূলকভাবে কর্মস্থলে ফেরেন, সে বিষয়ে কঠোর নীতিমালা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা দরকার বলে মনে করেন তারা।
এদিকে, ছুটির মেয়াদ শেষ হয়ে কর্মস্থলে না ফেরা ২৩ শিক্ষকের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা রয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে ছয় শিক্ষকের কাছে পাওনা ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা এবং বাকি ১৭ শিক্ষকের কাছে পাওনা রয়েছে ১ কোটি ৫১ লাখ টাকা। তবে শিক্ষাছুটি নিয়ে বিদেশে অবস্থানরত অন্য শিক্ষকদের কাছেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুল অঙ্কের অর্থ পাওনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
যবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ বলছে, ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যারা দীর্ঘদিন কর্মস্থলে যোগ দেননি, তাদের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে তাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা অর্থ আদায়েও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর সারাবাংলাকে জানান, শিক্ষাছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যারা কর্মস্থলে যোগ দেননি, তাদের বিরুদ্ধে শিগ্গিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদেরকে যোগদানের জন্য একমাসের নোটিশ দেওয়া হবে। এর মধ্যে যোগদান না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামী মাসেই রিজেন্ট বোর্ডের মিটিং আছে, সেখান থেকেই তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।