Wednesday 07 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

সংঘর্ষের জেরে ফ্রান্সে উচ্চমাধ্যমিকের ক্লাস স্থগিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৭ অক্টোবর ২০২৬ ১০:২৫

এক বিক্ষোভ সমাবেশে শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিচ্ছে। ছবি: এপি।

শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ অব্যাহত থাকায় ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু সপ্তাহের বাকি দিনগুলোর জন্য সারা দেশে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের ক্লাস স্থগিত করেছেন।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আল জাজিরার খবরে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের মতে, সারা দেশে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় আড়াই লাখ। তবে আয়োজকদের হিসাবে শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের সংখ্যা ছিল প্রায় পাঁচ লাখের কাছাকাছি। হাই স্কুল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন জানিয়েছে, প্রায় ২,০০০ হাই স্কুলে অবরোধ বা ধর্মঘট পালন করা হয়েছে এবং সেগুলোর কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল।

রাজধানী প্যারিসে আয়োজিত একটি মিছিল থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক নাতাশা বাটলার জানান, ক্রমশ আরও বেশি সংখ্যক সংগঠন এই বিক্ষোভে শামিল হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বাটলার বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সংগঠনের-যেমন কৃষক ইউনিয়ন, জ্বালানি খাতের কর্মী ও শিক্ষক ইউনিয়নের সদস্যদেরও দেখতে পাচ্ছি। তারা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীদের সমর্থনে তারাও রাস্তায় নেমেছেন।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘অভিভাবক ও শিক্ষকরা জানিয়েছেন যে, তারা কেবল শিক্ষার্থীদের সমর্থন করতেই নয়, বরং তাদের সুরক্ষার জন্যও এখানে উপস্থিত হয়েছেন। কারণ, বিক্ষোভের মধ্যে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীর অনুপ্রবেশ এবং পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের আশঙ্কা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।’

স্ট্রাসবার্গ, লিওঁ এবং রেন-এ বিক্ষোভ একপর্যায়ে সহিংস হয়ে ওঠে। এ সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে এবং বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় আগুন জ্বালানো ও বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারার মতো ঘটনা ঘটায়। বিভিন্ন শহরে যখন লাখ লাখ মানুষ বিক্ষোভ করছিলেন, তখন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর সামনে অবরোধকারী বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।

স্ট্রাসবার্গের বাসিন্দা ও সদ্য হাই স্কুল পাস করা শিক্ষার্থী হুগো ভেটজেল, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তিনি বলেন, ‘যখন সহিংসতার মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়, তখন বুঝতে হবে যে গণতন্ত্র আর ঠিকঠাক কাজ করছে না। অভিজাত শ্রেণি ও আমাদের মধ্যে বিশাল এক ব্যবধান রয়েছে।’

শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে যে দাবিগুলো জানানো হয়েছে সেগুলো হলো- অনুপস্থিত শিক্ষকদের বদলি বা বিকল্প ব্যবস্থা করা, দুপুরের খাবারের বিরতি দীর্ঘ করা এবং স্কুল সময়ের ব্যাপ্তি পরিবর্তন।

প্যারিসের সবচেয়ে দরিদ্র এলাকাগুলোতে দুই সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভের আগুন এখন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। সরকার জানিয়েছে যে এই আন্দোলন এখন শহুরে সহিংসতায় রূপ নিয়েছে এবং কিছু বিক্ষোভ সমাবেশে দাঙ্গা-বিরোধী পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।