Wednesday 07 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা: এমপি গাজী নজরুলের জামিন নামঞ্জুর

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৭ অক্টোবর ২০২৬ ১৫:৫৪ | আপডেট: ৭ অক্টোবর ২০২৬ ১৫:৫৫

এমপি গাজী নজরুল ইসলাম।

ঢাকা: দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গ্রেফতার সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার (৭ অক্টোবর) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিন গাজী নজরুলের পক্ষে আইনজীবী মাহবুবুর রহমান আপসের শর্তে জামিন চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। শুনানির একপর্যায়ে মামলার বাদী ও মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আদালতে আপসনামা দাখিল করে জানান, গাজী নজরুলের জামিনে তার কোনো আপত্তি নেই। তবে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

বিজ্ঞাপন

মামলার বাদী আদালতকে জানান, মরিয়মের আত্মহত্যার ঘটনায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামকে সন্দেহের ভিত্তিতে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম এবং শ্যালক ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।

মামলার পর ২১ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুলের চার দিন এবং মাকসুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে ২২ সেপ্টেম্বর মাকসুদাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরদিন ওবায়দুর রহমানকে গ্রেফতারের পর কারাগারে পাঠানো হয়। চার দিনের রিমান্ড শেষে ২৪ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুলকে আবারও চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরে ৩০ সেপ্টেম্বর মাকসুদা ইসলাম জামিন পান।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত জুনে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। সংসদ সদস্য হওয়ায় নজরুল, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ও মরিয়ম ন্যাম ভবনের ওই বাসায় বসবাস করতেন।

বাদীর অভিযোগ, বিয়ের পর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। মরিয়ম বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে বিষয়গুলো তার পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল মরিয়মের বাবাকে ফোন করে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি মরিয়মকে একটি কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশের সহায়তায় দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মামলায় দাবি করা হয়েছে, মরিয়মের লেখা একটি সুইসাইড নোটও বিছানার ওপর পাওয়া যায়। আসামিদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং তাদের প্ররোচনায় মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ করেন তার বাবা।

এর আগে, গত জুলাইয়ে মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুলের ব্যক্তিগত মুহূর্তের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে আলোচনা তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২২ জুলাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কার করে। সাংগঠনিক তদন্তে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার কথা জানিয়ে দলটি এ সিদ্ধান্ত নেয়।

এ ঘটনায় ২১ জুলাই পল্লবী থানায় আরেকটি মামলা করেন মরিয়মের মামা ও গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান। ওই মামলায় অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে তাকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়। ওই মামলায় গত ১০ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের জামিন পান গাজী নজরুল। পরবর্তীতে মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় ওবায়দুর রহমানকেও আসামি করা হয়।

 

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর