দিল্লি পুলিশের হাতে ২৪ ঘণ্টা আটক থাকার পর মুক্তি পেয়েই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সৌরভ দাস বলেন, সারা দেশে জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের আটক করা হচ্ছে, পরিবহনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে এবং রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়, রোববার (১১ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সৌরভ বলেন,‘পুরো দিল্লি এখন ৪০ হাজার নিরাপত্তা কর্মীসহ একটি দুর্গের মতো হয়ে উঠেছে। ৫০টিরও বেশি মেট্রো স্টেশন, দোকানপাট ও রাস্তাঘাট বন্ধ করে তারা আমাদের আন্দোলনকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে… তারা ‘জেন-জি’ বা তরুণ প্রজন্মের এই আন্দোলনকে খারাপভাবে উপস্থাপন করতে চায়’।
সিজেপি নেতা মোদী সরকারের সমালোচনা করে তিনি জানান, তারা জানতেন যে তাদের আটক করা হবে, কিন্তু এমনভাবে তা ঘটবে-তা তারা আশা করেননি।
তিনি বলেন, ‘আমরা যখন নামলাম, পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে বিমানের সিঁড়িতে উঠে এল এবং আমাদের তুলে নিয়ে গেল।’
সৌরভ আরও জানান, আটকের পর তাদের কাছ থেকে ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং জানিয়ে দেওয়া হয় যে, আটক থাকাকালীন তাদের কোনো আইনজীবী দেওয়া হবে না।
সৌরভ আরও বলেন,‘আটকের বিষয়ে তারা আমাদের কোনো নথিপত্র দেখায়নি বা কারণ জানায়নি। নারী পুলিশ সদস্যদের ব্যবহার করে তারা জোরপূর্বক আমাদের ফোনগুলো কেড়ে নেয়। আমরা ফোনগুলো দিয়ে দিই এবং বাজেয়াপ্ত করার আনুষ্ঠানিক নথিপত্র (সিজার মেমো) দাবি করি। কিন্তু তারা তা দিতে অস্বীকার করে। আইনজীবী পাওয়ার আইনি অধিকার আমাদের থাকলেও পুলিশ তাতে বাধা দেয়। তারা বলে যে, আটক অবস্থায় আমাদের কোনো অধিকার নেই। ভাবুন তো, অন্যদের সাথে তারা কী আচরণই না করছে।’
এরপর তিনি অভিযোগ করেন, তাদের ফোনগুলো হয়তো ক্লোন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের ফোনগুলো নিয়ে তারা কী কী করেছে, তা নিয়ে আমরা সন্দিহান। আমাদের ধারণা, তারা হয়তো ফোনগুলো হ্যাক করেছে অথবা ক্লোন করেছে। হয়তো তারা কোনো ভুয়া প্রমাণ বা তথ্য ঢুকিয়ে দিয়েছে। আর এই সন্দেহটি যৌক্তিক, কারণ তারা আমাদের কোনো নথিপত্র দেয়নি এবং ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ফোনগুলো তাদের কাছে রেখেছিল।’
তিনি বলেন, জ্ঞানেশ কুমারের-যাকে তিনি ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে অভিহিত করেছেন- তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় সরকার এসব পদক্ষেপ নিচ্ছে।
মুক্তি পাওয়ার শর্ত হিসেবে ‘শান্তি বজায় রাখার’ যে মুচলেকা বা বন্ডের কথা বলা হয়েছে, তার তীব্র সমালোচনা করেন আশুতোষ রাঙ্কা। তিনি অভিযোগ করেন, শান্তি বিঘ্নিত করার জন্য আসলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং দিল্লি পুলিশই দায়ী।
রাঙ্কা বলেন, ‘মোদী, শাহ এবং দিল্লি পুলিশই শান্তি ভঙ্গ করছে। আমরা কেবল যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করতে চাই।’
বিক্ষোভকারীদের হয়রানি করছে দিল্লি পুলিশ: সিজেপি (CJP)
সিজেপি-র আইনি বিষয়ক প্রধান রত্না সিং দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারী ও তাদের পরিবারকে হয়রানি করার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত থেকে শনিবার (১০ অক্টোবর) পর্যন্ত পুলিশ কর্মকর্তারা স্বেচ্ছাসেবকদের বাড়িতে গিয়ে তাদের বাবা-মাদের ভয়ভীতি দেখিয়েছেন।
সরকারকে ‘ভীতু’ আখ্যা দিয়ে সিং অভিযোগ করেন যে, পুলিশ সরকারের নির্দেশেই কাজ করছে। তিনি দাবি করেন, দিল্লিতে পৌঁছানোর পর থেকেই ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি) তার ওপর নজর রাখছিল এবং পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে এমনভাবে ধাওয়া করেছিল যেন তিনি কোনো অপরাধী।