Sunday 11 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

দ্বিতীয় স্ত্রীর আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা, এমপি গাজী নজরুলের জামিন নামঞ্জুর

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১১ অক্টোবর ২০২৬ ১৭:৫৯ | আপডেট: ১১ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:১৫

সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম – সংগৃহীত ফাইল ছবি

ঢাকা: দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

রোববার (১১ অক্টোবর) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শুনানিতে আসামিপক্ষে আইনজীবী মাহবুবুর রহমান আপসের শর্তে গাজী নজরুলের জামিন আবেদন করেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সংসদ সদস্যদের আবাসিক এলাকা ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত জুনে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী গাজী নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় এ বিয়ে হয়েছিল। সংসদ সদস্য হওয়ায় গাজী নজরুল তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম ও দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে নিয়ে ন্যাম ভবনের ওই বাসায় থাকতেন।

এজাহারে মরিয়মের বাবার অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। মরিয়ম বিভিন্ন সময়ে মুঠোফোনে পরিবারের সদস্যদের কাছে নির্যাতনের কথা জানিয়েছিলেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

এতে আরও বলা হয়, ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল ফোন করে মরিয়মের বাবাকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে পৌঁছে তিনি অনেক লোকজন দেখতে পান। পরে জানতে পারেন, বাসার একটি কক্ষে মরিয়ম ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়েছেন। পুলিশের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান তিনি। ওই কক্ষে বিছানার ওপর মরিয়মের লেখা একটি চিরকুটও পাওয়া যায়।

মরিয়মের বাবার অভিযোগ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং আসামিদের প্ররোচনার কারণে তার মেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতে চূড়ান্তভাবে কিছু প্রমাণিত হয়নি।

গত জুলাইয়ে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২২ জুলাই গাজী নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাংগঠনিক তদন্তে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকেও বিষয়টি জানানো হয়।

ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর গত ২১ জুলাই অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ, ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর এবং শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পল্লবী থানায় আরেকটি মামলা হয়। গাজী নজরুলের গাড়িচালক ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমান ওই মামলার বাদী ছিলেন। সেই মামলায় গত ১০ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের জামিন পান গাজী নজরুল।

তবে মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় ওবায়দুর রহমানকেই এবার আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় গাজী নজরুলের জামিন আবেদন রোববার নামঞ্জুর করেন আদালত।