Monday 12 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আশাবাদী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১১ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:৩৮ | আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:০৪

– ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের স্বদেশে প্রত্যাবাসনের জন্য আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দরকার, এটা অনস্বীকার্য। চীন, জাপান, ভারত এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ সকলের সহযোগিতায় আমরা এই বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের তাদের দেশে স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণভাবে তাদের প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে পারব বলে আশা করি। আর এটি নিশ্চিতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করা হচ্ছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধায় রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে ‘ফাউন্ডেশন ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ’ এর উদ্যোগে “রোহিঙ্গা সংকট: ভবিষ্যতের করণীয় – টেকসই প্রত্যাবাসন এবং একটি স্থায়ী আঞ্চলিক সমাধানের পথে” শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন এফএসডিএস-এর চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল ফজলে এলাহী আকবর (অব.)।

বিজ্ঞাপন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আমরা নতুনভাবে জাপান সরকারের, চীনা সরকারের সঙ্গেও কথা বলছি। তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে তারা আমাদেরকে আশ্বাস দিয়েছেন যে, তারা সহযোগিতা করবেন। জাতিসংঘে যেহেতু এ বছর সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ থেকে একজন প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন, এই বিষয়ের উপর আমরা ফোকাস বেশি দিচ্ছি এবং তা অব্যাহত থাকবে। আমরা আশা করি অদূর ভবিষ্যতে আমরা এর একটা পথ বের করতে পারব।

তিনি বলেন, বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য কেবল বাংলাদেশের একক প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়; বরং চীন, আসিয়ান, জাতিসংঘ, জাপানসহ সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে একটি কৌশলগত আঞ্চলিক জোট ও সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা প্রয়োজন।

রাখাইন রাজ্যের বর্তমান পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে আইনি সরকারের পাশাপাশি বড় অংশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে আরাকান আর্মি। ফলে বর্তমান প্রেক্ষাপটে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগসহ নানামুখী কূটনৈতিক মাধ্যম ব্যবহার করে সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে। তবে শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসনই মূল লক্ষ্য এবং চূড়ান্ত বিকল্প হিসেবে সকল পথ উন্মুক্ত রেখেই বাংলাদেশ কূটনৈতিক সংলাপ অব্যাহত রাখবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রীর পদমর্যাদা) মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, রোহিঙ্গা সংকট কেবল একটি মানবিক সমস্যা বা দ্বিপক্ষীয় বিষয় নয়; এটি জাতীয় স্বার্থ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। বিগত দশকগুলোতে এই সংকটের বহুমুখী জটিলতা ও মিয়ানমারের পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও সামরিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে আমাদের এখন সংকট ব্যবস্থাপনা থেকে কৌশলগত কূটনীতি, অস্থায়ী ত্রাণ সহায়তা থেকে টেকসই প্রত্যাবাসন এবং খণ্ডিত উদ্যোগের পরিবর্তে একটি সমন্বিত জাতীয় কৌশলের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। এছাড়া, রোহিঙ্গাদের মানবিক অধিকার ও সুরক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ নিজ ভূমিতে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে হবে।

সেমিনারে বিষয়ভিত্তিক তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ উপস্থাপিত হয়। প্রথম প্রবন্ধে মিয়ানমার ও রাখাইনের পরিবর্তিত বাস্তবতায় রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোকপাত করেন অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. আলী আশরাফ। দ্বিতীয় প্রবন্ধে রাখাইনের উন্নয়ন, কানেক্টিভিটি ও প্রত্যাবাসন বিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক শাহাব এনাম খান। তৃতীয় প্রবন্ধে আঞ্চলিক কূটনীতি এবং বাংলাদেশের কৌশলগত পথসমূহ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা তুলে ধরেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাফায়াত আহমদ (অব.)।

প্রবন্ধগুলোর ওপর আলোচনায় বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, প্রত্যাবাসন কেবল মানুষদের শারীরিক পুনর্বাসন নয়; বরং ফেরত যাওয়া নাগরিকদের নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব, বাসস্থান, জীবিকা ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের সাথে গ্রহণযোগ্যতা তৈরির মতো অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করাই টেকসই সমাধানের মূল চাবিকাঠি।

সেমিনারে দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, গবেষক, শিক্ষাবিদরা উপস্থিত ছিলেন।