নোয়াখালী: নোয়াখালীর ৯টি জেলায় ঘরে ঘরে জ্বর-সর্দি-কাশির প্রকোপ দেখা দিয়েছে । গত দুই সপ্তাহ ধরে হঠাৎ এসব রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় জেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চাপ দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে, ডেঙ্গু হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অনেকে।
নোয়াখালী মাইজদী শহরের বাসিন্দা ব্যাংক কর্মকর্তা নুর নবী মোহন জানান, প্রথমে তার বড় ছেলে ওমরের জ্বর আসে। পরে মেয়ে ওয়াসিফা ও ছোট ছেলে ওয়ালিদের জ্বর আসে। তাদের এখনো জ্বর। হালকা শুকনো কাশি। রাতে ১০০-১০৩ ডিগ্রি পর্যন্ত জ্বর হয়। পরে শুরু হয় সর্দি। ছেলের জ্বর দেখে আতঙ্কিত হন তিনি। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ছেলেকে জ্বরের ওষুধ খাওয়াতে শুরু করেন। ৪ দিন পর কমে গেল জ্বর। এরপর একইভাবে জ্বর শুরু হলো ব্যাংক কর্মকর্তা নুর নবী মোহনের স্ত্রী রিয়ার।
এ চিত্র শুধু এই একটি পরিবারে নয়। নোয়াখালী জেলার প্রতিটি এলাকার ঘরে ঘরে এখন জ্বর সর্দির প্রাদুর্ভাব। ঘরের একজনের জ্বর হলে অন্য সবারই জ্বর হচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন- এটা নাকি মৌসুমি জ্বর। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে বেশি করে তরল খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. ইয়াকুব আলী মুন্সী জানান, দিনে বেশি গরম ও রাতে কিছুটা ঠান্ডা হয়। তাই এ ধরনের জ্বর ও সর্দি হয়। আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে এই জ্বর, সর্দি ও কাশির প্রাদুর্ভাব ঘটে। এটাকে আমরা সিজনাল ফ্লু বলি। সিজনাল ফ্লু-এর জন্য ভয়ের কিছু নেই।
তিনি আরও জানান, এমন জ্বর হলে আমরা প্রচুর পরিমাণ তরল খাবার খেতে বলি। জ্বর-ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ আর ঠান্ডার জন্য অ্যান্টি হিস্টামিন বা অ্যালাট্রল জাতীয় ওষুধ খেতে বলা হয়। স্বাভাবিক খাবার, ফল, শাক-সবজি বেশি খেতে হবে। তাহলে ভালো হয়ে যায়।
ডা. ইয়াকুব আলী মুন্সী আরও বলেন, যদি কারো ইনফেকশন যোগ হয়ে যায়, তখন তাকে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। কাশি হলে কফ বের করার জন্য এক ধরনের সিরাপ দেওয়া হয়। এ জ্বর ও সর্দি ৫-৭ দিন পর ভালো হয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, এই জ্বর হলে অনেকেই নিজের মতো করে নাপা বা অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খান। এটা মোটেও ঠিক না। যদি জ্বর হয়, তাহলে অবশ্যই একজন চিকিৎসক দেখিয়ে তার পরামর্শ মতো ওষুধ খেতে হবে। কেননা, এখন ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব রয়েছে। সিজনাল জ্বর-সর্দি নাকি ডেঙ্গু এর জন্য জ্বর-সর্দি, তা চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি ভালো বুঝবেন এবং সেই অনুপাতে পরামর্শ দেবেন। তাই নিজের মতো করে ওষুধ না খেয়ে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খেতে হবে বলে জানান তিনি।