ঢাকা: বাংলাদেশে কূটনৈতিক শিষ্টাচার না মেনে আধিপত্য বিস্তারে তৎপরতা চালানোর অভিযোগে ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীকে বহিষ্কারের দাবিতে আগামী ২৯ অক্টোবর দেশটির দূতাবাস ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়েছে মুসলিম জাতীয়তাবাদী দল জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে এ ঘোষণা দেন দলটির আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান।
আহ্বায়ক বলেন, আমরা ১৫ দিন আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করে সরকারকে বলেছিলাম দিনেশ ত্রিবেদীর অপতৎপরতা থামান, ভারতীয় আধিপত্যবাদের অবসান ঘটান। কিন্তু আমাদের দাবি পূরণ হয়নি। উল্টা ভারতীয় মদদে দেশে বিদেশে ফ্যাসিস্টদের উত্থান ঘটেছে। এ অবস্থায় দিনেশ ত্রিবেদীকে বহিষ্কার করে ভারতকে জবাব দেওয়া সময়ের দাবি। আমরা আশা করি ঘেরাও কর্মসূচিতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী সহ সব দেশ প্রেমিক দলের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করবেন।
সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরে খোমেনী ইহসান বলেন, চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পরপর জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন জুলাই গণহত্যার বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে অন্তর্বর্তী সরকারকে বলেছিল অপরাধীদের বিচার করে তা কমিশনকে জানাতে। কিন্তু সরকার জুলাই গণহত্যায় সরাসরি জড়িতদের ও দলগতভাবে আওয়ামী লীগের বিচার বাদ দিয়ে সংস্কার ইস্যুকে কেন্দ্র করে সময় অপচয় করেছে। এ সুযোগে আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা দুঃসাহস দেখাতে দেখাতে নিউইয়র্কে হুইল চেয়ারে বসা সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে হেনস্তা করেছে। দেশে ফ্যাসিবাদের কালচারাল আইকন রবীন্দ্রনাথের ছবি অবমাননার অভিযোগে চারজন জুলাই যোদ্ধাকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। ভারতে পলাতক মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত শেখ হাসিনারা হুঙ্কার দিচ্ছে। এ অবস্থায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ডেজিগনেটেড ফ্যাসিবাদী সন্ত্রাসী দল ও ভারতকে এর মদদদাতা রাষ্ট্র ঘোষণা করার বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তা করে ভারত ও আওয়ামী লীগ সব রেড লাইন অতিক্রম করে ফেলেছে। এখন তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের রিকনসিলিয়েশনের কোনো সুযোগ নাই। এখন শুধু প্রতিরোধ হবে।
খোমেনী ইহসান বলেন, ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনার পর ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদ প্রশ্নে বাংলাদেশের জনগণ, সরকার, বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজের উচিত সব অস্পষ্টতা ও গোঁজামিল থেকে বের হয়ে আসা। বিশেষ করে সরকারের উচিত আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিস্ট সন্ত্রাসবাদী দল ঘোষণা করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল ও যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে বিষয়টি ডেজিগনেটেড করা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মাটি ব্যবহার করে আওয়ামী লীগাররা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করায় সংশ্লিষ্ট দেশের কাছে যথাযথ জবাবদিহিতা দাবি জানানো।
নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তার প্রতিবাদে এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সন্ত্রাসবাদ দমন, ভারতীয় হাইকমিশনারের অপতৎপরতা বন্ধ ও ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত সব অধীনতামূলক চুক্তি বাতিলের দাবিতে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে আরও বক্তৃতা করেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামসুদ্দিন, সহকারী সদস্য সচিব গালীব ইহসান ও আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের নেতা খাইরুল ইসলাম ও বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহেদসহ অন্যান্যরা।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নবাব সলিমুল্লাহ একাডেমির চেয়ারম্যান মো. আবদুল জব্বার, জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. সাইদুল ইসলাম ও সাকিব সামিন, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের সহকারী সদস্য সচিব মো. আরিফুল ইসলামসহ অন্যান্যরা।