ঢাকা: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর সাহেব আলী (৪০) হত্যা মামলার মূল ঘাতক মো. রনিকে (৩২) হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তল ও গুলিসহ গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১১ ও ৮)।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘ঘটনার পরপরই আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়। পরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ থানাধীন শাহজাহানপুর এলাকায় যৌথ সাঁড়াশি অভিযান চালায় এসআরবি-১১ ও এসআরবি-৮। অভিযানে মামলার প্রধান আসামি রনিকে গ্রেফতার করা হয়। এ নিয়ে আলোচিত এ হত্যা মামলায় দু’জনকে গ্রেফতার করা হলো।’
মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রনি হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টায় সিদ্ধিরগঞ্জের আটি ওয়াবদা কলোনিতে রনির নিজ বাসায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি পিস্তল ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে এসআরবি-১১।’
এসআরবি জানায়, গ্রেফতারকৃত রনিকে সংশ্লিষ্ট সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এর আগে গত ১৩ অক্টোবর মামলার ৩ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি সাব্বিরকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে এসআরবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে, গত ১২ অক্টোবর সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের আটি ওয়াবদা কলোনি এলাকার ইত্তেহাদ টাওয়ারের সামনে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে প্রকাশ্য দিবালোকে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা আটি ওয়াবদা এলাকার তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সাহেব আলীকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মূল অভিযুক্ত মো. রনি নিজ হাতে সাহেব আলীকে লক্ষ্য করে একের পর এক গুলি চালাচ্ছে। একপর্যায়ে গুলিবিদ্ধ সাহেব আলী সড়কের পাশের একটি খালে পড়ে গেলে হামলাকারীরা সেখানে গিয়েও তাকে লক্ষ্য করে ফের গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাহেব আলীর মৃত্যু হয়। প্রকাশ্য দিবালোকে এই হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।