Sunday 18 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

সাতক্ষীরায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হত্যা: প্রধান আসামিসহ গ্রেফতার ৩

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১৮ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৪১

গ্রেফতার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনী। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে পিটিয়ে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে কালিগঞ্জ থানার কৃষ্ণনগর এলাকা থেকে পুলিশ ও এসআরবির যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম।

দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এইচ এম শাহীন বলেন, ‌‘রাত ১১টার দিকে পুলিশ ও এসআরবির যৌথ অভিযানে শামীম হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। এর আগে এই মামলার দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

গত সোমবার শামীম (৩৮) ও তার স্ত্রীর কথোপকথনের একটি অডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। অডিওতে ধর্ম অবমাননাকর মন্তব্য আছে, এমন অভিযোগ উঠলে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয় এবং শামীমের বাড়িতে হামলার চেষ্টা করা হয়। ওই দিন স্থানীয় একটি বাজারে শামীমকে প্রথম মারধর করা হয়।

পরদিন মঙ্গলবার বিকেলে তিনি স্থানীয় এক পল্লি চিকিৎসকের চেম্বারে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তখন একদল লোক চেম্বার থেকে শামীমকে বের করে আবার মারধর করেন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অভিযুক্ত ফজলুল হক আমিনীর নেতৃত্বে রাতে মিছিল নিয়ে হাসপাতালে হামলার ঘটনা ঘটে। সেখান থেকে শামীমকে ছিনিয়ে নিয়ে আবার পেটানো হয়। পরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে শামীম মারা যান।

শামীম হত্যার ঘটনায় তার বড় ভাই আবদুল জলিল বাদী হয়ে দেবহাটা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় ফজলুল হক আমিনীকে প্রধান আসামি করা হয়।

দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ফজলুল হক আমিনীর ফেসবুক প্রোফাইলের নাম ‘Fh Ameni’। শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে ওই প্রোফাইল থেকে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। এতে ফজলুল হক লিখেছেন, ‘আমি আপনাদের মাঝে থাকবো না, যেকোনো সময় আমাকে অ্যারেস্ট করা হবে, কিন্তু মোনাজাতে আমাকে শামিল রাখবেন। তামাম বিশ্ববাসী আমাকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করলেও কিছু যায় আসে না, যদি আল্লাহ পাক আমাকে মাফ করে দেন। এ যুগের গাজী ইলমুদ্দিন হিসেবে আমাকে এবং এই অপারেশনে যারা অংশগ্রহণ করেছিল সকলকে যেন কবুল করে নেন।’

এর আগে, ওই দিন রাত ১০টা ২২ মিনিটে শামীমকে নিয়ে একটি পোস্ট দেন ফজলুল হক আমিনী। ওই পোস্টের সঙ্গে শামীমের একটি কথোপকথনের অডিও যুক্ত করেন তিনি। তারও আগে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ২৬ মিনিটে দেওয়া আরেকটি পোস্টে শামীমের মানসিক অসুস্থতার দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন ফজলুল হক আমিনী।

নিহত শামীম দেবহাটা উপজেলার সুবর্ণাবাদ গ্রামের শামসুল রহমানের ছেলে। পরিবারের ভাষ্য, শামীম দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। কখনো স্বাভাবিকভাবে কথা বলতেন, আবার কখনো অসংলগ্ন আচরণ করতেন। এলাকার মানুষও তার অসুস্থতার বিষয়টি জানতেন। শামীম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেছেন। পাশাপাশি কামিল পাস করেছেন এবং হোমিওপ্যাথি নিয়েও পড়াশোনা করেছেন। তার স্ত্রী ও দুই ছেলে আছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর