Monday 19 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিকায়নকৃত ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১৯ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৩৪

ঢাকা: রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ এবং আধুনিকায়নকৃত ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তিনি স্মৃতিস্তম্ভটির উদ্বোধন করেন।

সকাল ১০টায় অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা মোস্তাফিজুর রহমান, শহিদ শাহারিয়ার খাঁন আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি এবং শহিদ ওয়াসিম আকরামের বাবা মোহাম্মদ শফিউল আলমকে সঙ্গে নিয়ে স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনের পর স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি আধুনিকায়নকৃত ওসমানী উদ্যানের উদ্বোধন করেন এবং উদ্যানটি ঘুরে দেখেন। এ সময় উদ্যানে স্থাপিত গ্রন্থাগারও পরিদর্শন করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং রাজধানীর নাগরিক পরিবেশ উন্নত করার লক্ষ্যে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

৮৩৪ শহিদের নাম খোদাই করা হয়েছে স্মৃতিস্তম্ভে

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের স্মৃতি সংরক্ষণে ওসমানী উদ্যানে নির্মাণ করা হয়েছে ৯০ ফুট উঁচু ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’। প্রায় এক একর জায়গাজুড়ে নির্মিত এই স্মৃতিস্তম্ভের গায়ে লেজার কাটিংয়ের মাধ্যমে খোদাই করা হয়েছে ৮৩৪ জন শহিদের নাম। স্মৃতিস্তম্ভের সামনে স্থাপন করা হয়েছে ২০টি প্রতীকী সমাধিফলক।

স্মৃতিস্তম্ভের বাইরের দিকে ১৬৩ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে চার ফুট উঁচু এবং ভেতরের দিকে ১৭১ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে সাত ফুট উঁচু রিলিফ ভাস্কর্য রয়েছে।

এতে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের ধারাবাহিক আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।

আধুনিক নাগরিক বিনোদনকেন্দ্র ওসমানী উদ্যান

রাজধানীর পুরান ও নতুন ঢাকার সংযোগস্থলে অবস্থিত ২৩ একর আয়তনের ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় উদ্যানটিকে সবুজ, নিরাপদ ও আধুনিক নাগরিক বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।

আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে পুরোনো জলাশয় সংস্কারের পাশাপাশি নির্মাণ করা হয়েছে পাঁচটি নতুন জলাশয়। বিদ্যমান গাছপালা সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন বৃক্ষরোপণ ও সবুজ দ্বীপ তৈরি করা হয়েছে।

উদ্যানটিতে নির্মাণ করা হয়েছে প্রায় ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার হাঁটার পথ, ব্যায়ামাগার, প্যাগোডা, গণশৌচাগার, পার্কিং সুবিধা ও জলাশয়ের ঘাট। এ ছাড়া বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য রাখা হয়েছে ৫০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার ব্যবস্থা।

দুই স্তরে সাজানো উদ্যানটির সড়ক থেকে দুই মিটার উঁচুতে রয়েছে দ্রুত চলাচলের পথ। এসব অবকাঠামোর মাধ্যমে উদ্যানটিকে নগরবাসীর হাঁটাচলা, শরীরচর্চা ও অবসর কাটানোর উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর