রংপুর: রংপুরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২৬টি মামলার আসামি রাজিব হোসেন সুমন ওরফে মেরিল সুমনকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১৩)। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, ডাকাতি, মাদক, চাঁদাবাজি ও অপহরণসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২৬টি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া তিনি দীর্ঘদিন ধরে রংপুর অঞ্চলের অপরাধজগতে সক্রিয় ছিলেন এবং বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার গ্রেফতার হয়ে আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে এসে আবারও অপরাধে জড়িয়েছেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) ভোররাতে রংপুর নগরীর সিও বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান এসআরবি-১৩ রংপুরের উপ-অধিনায়ক মেজর সাইফুল ইসলাম। গ্রেফতার মেরিল সুমন রংপুর নগরীর শালবন শাহীপাড়া এলাকার আবু হানিফের ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সুমনের বিরুদ্ধে থাকা ২৬টি মামলার মধ্যে হত্যাচেষ্টা ও মারামারির অভিযোগে ৮টি, চাঁদাবাজির ৪টি, ডাকাতির প্রস্তুতির ৩টি, অস্ত্র আইনে ৬টি, হত্যা, অপহরণ, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত একটি করে এবং দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা রয়েছে।
এসআরবি-১৩-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে জাপানি নাগরিক কুনিও হোসি হত্যা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে অস্ত্রসহ সুমনকে গ্রেফতার করেছিল তৎকালীন র্যাব-৫। ২০১৯ সালে রংপুর মহানগরীর তাজহাট এলাকা থেকে ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে বিদেশি পিস্তল, রিভলবার, গুলি, শুটার গান ও চিনা কুড়ালসহ তাকে গ্রেফতার করেছিল তৎকালীন র্যাব-১৩। এ ছাড়া ২০২৩ সালে রংপুর মহানগরীর ইস্টার্ন হাউজিং এলাকা থেকে পিস্তল ও ইয়াবাসহ তাকে গ্রেফতার করে রংপুর মহানগর পুলিশ।
সর্বশেষ চলতি বছরের জানুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে প্রার্থীদের ওপর হামলা, নির্বাচনি প্রচারণায় বাধা সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির পরিকল্পনার অভিযোগে রংপুর মহানগর পুলিশ ও ঠাকুরগাঁও জেলা গোয়েন্দা শাখার যৌথ অভিযানে ঠাকুরগাঁও থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। ওই সময় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র ও ডাকাতিসহ অন্তত ৯টি মামলা চলমান ছিল এবং তিনি আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির পরিকল্পনা করছিলেন । পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছিল, মেরিল সুমন রংপুর অঞ্চলে নিজস্ব বাহিনী পরিচালনা করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মাদক নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ করে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করতেন ।
এসআরবি-১৩ জানায়, সুমন দীর্ঘদিন ধরে রংপুর অঞ্চলের অপরাধজগতে সক্রিয়। সর্বশেষ অভিযানে গ্রেফতারের পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।