ঢাকা: একসময় একটি ট্রেডমিল কিনতে খরচ হতো এক লাখ টাকা বা তারও বেশি। সেই বাজারে তুলনামূলক কম দামে ঘরে ব্যায়ামের সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ২০১০ সালে অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা শুরু করেন উদ্যোক্তা সাজ্জাদ রাশেদ। দেড় দশকের বেশি সময় পর তার সেই উদ্যোগের পরিধি বেড়েছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে শোরুমের পাশাপাশি দেশজুড়ে বিক্রয়োত্তর সেবা দিচ্ছে তার প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ব্লু করপোরেশন।
ট্রেডমিল, এক্সারসাইজ বাইক, ডাম্বেলসহ বিভিন্ন ধরনের ফিটনেস ও স্পোর্টস সরঞ্জাম সরাসরি আমদানি করে বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ‘বি-অ্যাকটিভ’-এর হোলসেল ও ডিস্ট্রিবিউশন কার্যক্রমের মাধ্যমে এ ব্র্যান্ডের বিভিন্ন পণ্যও দেশের ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে তারা। সাজ্জাদের লক্ষ্য, ক্রেতাদের চাহিদা ও সামর্থ্য অনুযায়ী ফিটনেস সরঞ্জাম সরবরাহের পাশাপাশি বিক্রির পরও সেবা নিশ্চিত করা।
২০১০ সালে ব্যবসা শুরুর সময় অনলাইনই ছিল সাজ্জাদ রাশেদের প্রধান ভরসা। পণ্যের তথ্য তুলে ধরা, ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং অর্ডার নেওয়ার মাধ্যমে ব্যবসা এগিয়ে নিতে থাকেন তিনি। সময়ের সঙ্গে ব্যবসার পরিধি বাড়লে শোরুমকেন্দ্রিক বিক্রিও শুরু হয়। সাজ্জাদ রাশেদ বলেন, শুরুতে মূলত অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিলাম। তবে সময়ের সঙ্গে গ্রাহকদের ভালোবাসায় ব্যবসার পরিধি বেড়েছে। এখন আমাদের শোরুম ও বিক্রয়কেন্দ্রে ক্রেতারা আসছেন। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির শোরুম। তবে বিক্রির বড় একটি অংশ এখনো অনলাইনের মাধ্যমে হয় বলে জানান তিনি।
বর্তমানে রয়্যাল ব্লু করপোরেশন থেকে ২৮ হাজার টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন দামের ইলেকট্রিক ট্রেডমিল কিনতে পারছেন ক্রেতারা। এতে তুলনামূলক কম বাজেটের ক্রেতাদের জন্য ট্রেডমিল কেনা সহজ হয়েছে। সাজ্জাদ রাশেদের ভাষ্য, একসময় একটি ট্রেডমিল কিনতে প্রায় এক লাখ টাকা বা তারও বেশি খরচ হতো। এখন তাদের প্রতিষ্ঠানে ২৮ হাজার টাকা থেকে শুরু করে দুই লাখ টাকা বা তার বেশি দামের ট্রেডমিলও রয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা ক্রেতাদের চাহিদা ও বাজেট অনুযায়ী পণ্য বাজারে আনার চেষ্টা করেছি। ২৮ হাজার টাকার ট্রেডমিল যেমন রয়েছে, তেমনি ৫০ হাজার থেকে শুরু করে এক লাখ বা দুই লাখ টাকার পণ্যও রয়েছে। ট্রেডমিলের পাশাপাশি এক্সারসাইজ বাইক, ডাম্বেল এবং অন্যান্য ব্যায়াম ও খেলাধুলার সরঞ্জাম বিক্রি করে রয়্যাল ব্লু করপোরেশন। বিভিন্ন দামের পণ্য থাকায় ক্রেতারা নিজেদের প্রয়োজন ও সামর্থ্য অনুযায়ী সরঞ্জাম বেছে নিতে পারেন।
দেশের মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ছে। নগরজীবনের ব্যস্ততা, যানজট এবং বাইরে হাঁটা বা ব্যায়ামের পর্যাপ্ত সুযোগের অভাবে অনেকে ঘরে ব্যায়ামের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে হোম ফিটনেস সরঞ্জামের প্রতিও আগ্রহ বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। রয়্যাল ব্লু করপোরেশনের মাধ্যমে ক্রেতারা নিজেদের প্রয়োজন ও বাজেট অনুযায়ী হোম জিমের সরঞ্জাম বেছে নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুসারে একটি হোম জিম সাজিয়ে নিতে পারেন।
নিজেদের আমদানি করা পণ্য বিক্রির পাশাপাশি বিক্রয়োত্তর সেবায়ও গুরুত্ব দিচ্ছে রয়্যাল ব্লু করপোরেশন। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, দেশজুড়ে তাদের ২২টি সার্ভিস পয়েন্ট রয়েছে। এসব পয়েন্টের মাধ্যমে ক্রেতাদের মেরামত, যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য বিক্রয়োত্তর সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। বি-অ্যাকটিভ ফিটনেসের বিভিন্ন মডেলের পণ্য এবং দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বাজারে ব্র্যান্ডটির উপস্থিতি ক্রেতাদের কাছে এর পরিচিতি বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। পণ্যের ওয়ারেন্টি, যন্ত্রাংশের প্রাপ্যতা এবং বিক্রির পর মেরামতসেবা ক্রেতাদের আস্থা অর্জনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিষ্ঠানটির অনলাইন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরাও। সাজ্জাদ রাশেদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসকারী বাংলাদেশিরা তাঁদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের জন্য ফিটনেস সরঞ্জাম কিনছেন। পণ্যের বিবরণ, ব্যবহারবিষয়ক ভিডিও, নতুন পণ্যের তথ্য এবং ওয়ারেন্টি নীতিমালা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ওয়েবসাইটে তুলে ধরে প্রতিষ্ঠানটি। এতে ক্রেতারা পণ্য সম্পর্কে ধারণা নিয়ে কেনাকাটার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ব্যবসা করলেও বাজারে প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি আরও বাড়াতে চান সাজ্জাদ রাশেদ। তার মতে, ফিটনেস সরঞ্জামের বাজারে বিক্রেতা ও ব্র্যান্ডের সংখ্যা বাড়ায় প্রতিযোগিতাও বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে পণ্যের মান বজায় রাখা এবং বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিত করাই প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম লক্ষ্য। অনলাইননির্ভর ছোট উদ্যোগ থেকে শোরুম, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্য বিতরণ এবং দেশজুড়ে বিক্রয়োত্তর সেবার ব্যবস্থা গড়ে তোলা সাজ্জাদ রাশেদের ব্যবসার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। এখন তার লক্ষ্য, ক্রেতাদের আস্থা ধরে রেখে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান আরও শক্তিশালী করা।