নেত্রকোনা: নেত্রকোনার হাওর জনপদ খালিয়াজুড়ীর ধনু নদীতে আইন উপেক্ষা করে বিভিন্ন গাছের ডালপালা ও বাঁশ ফেলে, চারপাশে জালের ঘের তৈরি করে নির্বিচারে মাছ শিকার চলছে। অপরিকল্পিত ঘের তৈরির ফলে নৌ পরিবহন কার্গো, বোলগেট চলাচলে চরম বেগ পোহাতে হচ্ছে। তলদেশে বালি জমে নাব্যতা হারাচ্ছে নদী। উপরন্তু পেশাদার জেলেরা উন্মুক্ত এ নদীর মাছ ধরার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
এলাকাবাসী, ভুক্তভোগী জেলে ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়,জেলার হাওর অঞ্চল খালিয়াজুড়ী উপজেলার লেপসিয়া- পাঁচহাট পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার স্থানে ধনু নদীতে অসংখ্য ঘের তৈরি করা হয়েছে।
ঘেরের ভেতরে কুড়া বা ফিড দিলে বিভিন্ন শ্রেণির মাছ খাবার খেতে চলে আসে। এই সুযোগে তারা ছোটো-বড়ো মাছ শিকার করে নেয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা আদায় করা হয়। কিন্তু ঘের মালিকরা তাদের ঘের তুলে নিচ্ছেন না। বারবার স্থানীয় প্রশাসন এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়ার পর ও থামছে না মাছ ধরার এ পুরোনো কৌশল ও পেশাগত জেলেদেরকে প্রতারণার ফাঁদ।
এ এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘জেলার একটি উল্লেখযোগ্য নদী ধনু। এ নদীপথে মালামাল ও যাত্রী নিয়ে সিলেট, সুনামগঞ্জ, ভৈরব, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে কার্গো, বোলগেট, নৌকা চলাচল করে। অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ঘেরের বাধার জন্য এসব নৌ-চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। সবচেয়ে বড় কথা, এলাকার পেশাদার জেলেরা নদীর মাছ ধরতে না পেরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ময়লা আবর্জনায় নাব্যতা হারাচ্ছে নদী।’
নামাপাড়া গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলরা জানান, এলাকার অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি এ ঘের তৈরির কাজে জড়িত রয়েছেন। এজন্য কেউ কিছু বলার সাহস পায় না।এ সুযোগ নিয়ে ইচ্ছেমতো নির্বিচারে মাছ শিকার করে দিনেরাতে। অনেকেই আবার রাজনীতি করে। তাদের অধিকার নাকি বেশি। ফলে বঞ্চিত হচ্ছে দরিদ্র পেশাদার জেলে পরিবার। সরেজমিনে তদন্ত করে পদক্ষেপ নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
নয়াপাড়া গ্রামের অজয় বর্মণ, গিরীশ বর্মণ বলেন, ‘পূর্বপুরুষ থেকে আমরা মাছ ধরে বিক্রি করে পরিবারের খরচ চালাই। বংশ পরম্পরায় মাছ ধরেই আমরা জীবিকা চালাই। অতীতে মাছ ধরায় বাধা ছিল না। এখন পেশাদার গরীব জেলেরা মাছ ধরতে গেলে মারধর করা হয়। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন অনেকেই। মাছ ধরতে না পারার কারণে ৪০টি পরিবার শহরে চলে গেছে। যারা আছেন তারা ও খুব কষ্ট নিয়ে দিনাতিপাত করছেন।’
জানতে চাইলে খালিয়াজুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলিমুজ্জামান (ইউএনও) জানান, ‘হাওর এলাকায় উন্মুক্ত জলাশয়ে সাধারণ জেলেসহ যে কোনো পেশার মানুষের জন্য মাছ শিকারে বাধা নেই। নদী দখল করে মাছ আটকে ঘের তৈরি মৎস্য আইনে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অভিযানে এরই মধ্যে অনেক জাল পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। ঘের তৈরির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছে অবৈধ ঘের ও জাল নিশ্চিহ্ন করার জন্য।’