Sunday 25 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ছোটবেলায় শিশুকে আয়াতুল কুরসি শেখাবেন কেন?

সারাবাংলা ডেস্ক
২৫ অক্টোবর ২০২৬ ১৬:৫০

একটি কোমলমতি শিশুর মনে ঈমানের প্রথম বীজ বুনে দেয়ার অন্যতম সেরা মাধ্যম হলো মহান আল্লাহর সঙ্গে তার পরিচয় করিয়ে দেয়া। শিশুদের ছোটবেলা থেকেই নামাজের জন্য ছোট সুরা শেখানোর পাশাপাশি পবিত্র কোরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত, ‘আয়াতুল কুরসি’ শেখানো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সুরা বাকারার ২৫৫ নম্বর এই আয়াতে আল্লাহর মহত্ত্ব, অসীম ক্ষমতা ও চিরন্তন অস্তিত্বের এক অপূর্ব বিবরণ রয়েছে। এটি কেবল মুখস্থ করার মতো একটি আয়াত নয়; বরং ভালোবেসে এর অর্থ শিশুর মনে গেঁথে দিতে পারলে তা তার জীবনের ঈমানি ও নৈতিক শিক্ষার মজবুত ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

আল্লাহর পরিচয় ও ঈমানি ভিত্তি গঠন

আয়াতুল কুরসিতে আল্লাহর একত্ববাদ, চিরঞ্জীব সত্তা ও অসীম জ্ঞানের কথা বলা হয়েছে। শিশুর বয়স ও বোঝার ক্ষমতা অনুযায়ী সহজ ভাষায় এসব বিষয় বুঝিয়ে বললে ছোটবেলা থেকেই তার মনে তাওহীদের সঠিক ধারণা তৈরি হয়। সে অনুধাবন করতে শেখে যে আল্লাহই তার সৃষ্টিকর্তা, রক্ষাকর্তা এবং মহাবিশ্বের প্রকৃত মালিক।

বিজ্ঞাপন

বিপদ ও ভয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা শেখা

আয়াতুল কুরসিতে আল্লাহর অসীম ক্ষমতার বর্ণনা রয়েছে। এর অর্থ বুঝে শিখলে শিশু যেকোনো ভয়, অনিশ্চয়তা বা কষ্টের মুহূর্তে আল্লাহর ওপর ভরসা (তাওয়াক্কুল) করার পরম শিক্ষা পায়। সে বুঝতে পারে, মানুষের শক্তি সীমিত হলেও আল্লাহ সর্বশক্তিমান এবং তিনিই একমাত্র সাহায্যকারী।

কোরআন ও ইবাদতের প্রতি ভালোবাসা

শিশুকে নিয়মিত কোরআনের আয়াত শোনা ও মুখস্থ করার অভ্যাস করালে কোরআনের প্রতি তার আত্মিক টান তৈরি হয়। প্রতি ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি তিলাওয়াতের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। ছোটবেলা থেকেই এই অভ্যাস গড়ে তুললে শিশুর মধ্যে নামাজ, দোয়া ও অন্যান্য ইবাদতের প্রতি আগ্রহ বাড়ে।

মুখস্থের পাশাপাশি অর্থ বোঝা জরুরি

শিশুকে শুধু দ্রুত মুখস্থ করানোর পেছনে না ছুটে আয়াতটির অর্থ ও শিক্ষাও সহজ করে বোঝানো উচিত। একসঙ্গে পুরোটা চাপিয়ে না দিয়ে অল্প অল্প করে সঠিক উচ্চারণ ও ভাবার্থ শেখানো যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে মা-বাবা নিজেরাও নিয়মিত তিলাওয়াত করলে শিশুরা তা দেখে দ্রুত অনুপ্রাণিত হয়।

শৈশব হলো কাঁচা মাটির মতো, এই বয়সে মনে যে শিক্ষার ছাঁচ ফেলে দেওয়া হয়, তা সারাজীবন অমলিন থাকে। তাই কোনো চাপ বা কড়াকড়ি নয়, বরং পরম মমতা ও ধৈর্যের সাথে শিশুর মনে আয়াতুল কুরসির আলো ছড়িয়ে দিন। এটি কেবল একটি আয়াত শেখানো নয়; বরং আপনার সন্তানকে এক পরম সুরক্ষা, অকৃত্রিম আত্মবিশ্বাস এবং আল্লাহর প্রতি গভীর ভালোবাসার চিরন্তন আমানত উপহার দেওয়া।