ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারও বাড়িয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আগামী ২০২৭ সালের ৫ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এ মামলার তিন আসামি হলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই টেলিভিশনের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে দুই মাস সময় চেয়ে আবেদন করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। আবেদনে তিনি বলেন, মামলায় মোট তিনজন আসামি রয়েছেন এবং তারা সবাই গ্রেফতার। রোববার তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত ও দাখিলের জন্য আরও দুই মাস সময় প্রয়োজন।
পরে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ ২০২৭ সালের ৫ জানুয়ারি নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে গত ২৪ আগস্ট তিন সাংবাদিককে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছিল।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সংবাদ সম্মেলনে তাঁকে প্রশ্ন করার নামে কয়েকজন সাংবাদিক উসকানিমূলক বক্তব্য দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের দাবি, ওই ঘটনার পর শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ ও ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ বলে উল্লেখ করেন। এসব উসকানি ও প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয় বলে মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে।