বাংলাদেশে সড়ক অবরোধের ঘটনা নতুন নয়। শিক্ষার্থীদের দাবি, চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন, শ্রমিকদের বিক্ষোভ কিংবা রাজনৈতিক প্রতিবাদসহ নানা উপলক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার দৃশ্য আমাদের কাছে খুব পরিচিত। এসব আন্দোলনের পেছনে অনেক সময় বাস্তব সমস্যা, দীর্ঘদিনের বঞ্চনা কিংবা কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতা কাজ করে। সেই দাবির যৌক্তিকতা কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু দাবি আদায়ের প্রধান পদ্ধতি হিসেবে সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া কতটা ন্যায়সংগত, তা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। প্রতিবাদের অধিকার যেমন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক তেমনি গুরুত্বপূর্ণ অন্যের স্বাভাবিক জীবনযাপনের অধিকার। এই দুইয়ের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে প্রতিবাদ একসময় জনসমর্থন অর্জনের বদলে জনবিরক্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে।
বিদ্যমান বিভিন্ন গবেষণা একটি বিষয় খুব স্পষ্ট করে তোলে। যান চলাচলের স্বাভাবিকতা ব্যাহত হলে তার প্রভাব কেবল ব্যক্তিগত অসুবিধার গণ্ডিতে আটকে থাকে না, বরং তা সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তার সঙ্গে যখন নিয়মিত সড়ক অবরোধ যুক্ত হয়, তখন আগে থেকেই যানজটে বিপর্যস্ত নগরজীবনের চাপ আরও বহুগুণ বাড়ে। ২০২৪ সালে ‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন পলিটিক্যাল সায়েন্স’ সাময়িকীতে প্রকাশিত গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক একটি গবেষণায় আন্দোলনের সামাজিক প্রভাব গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। ২৬ জনের সাক্ষাৎকারভিত্তিক ওই গুণগত গবেষণায় সড়ক অবরোধের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল, জীবিকা ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে। বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসা পেতে বিলম্ব হওয়ার মারাত্মক উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন অংশগ্রহণকারীরা। এই একটি গবেষণা দিয়ে হয়তো সারা দেশের আন্দোলনের ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ পুরোপুরি নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তবে এটি স্পষ্টভাবে দেখায়, আন্দোলনের প্রভাব বোঝার জন্য শুধু আন্দোলনকারীদের দাবি বা প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া দেখলেই চলে না। যাঁরা আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন, তাঁদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতাও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হয়।
সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা আমাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। দাবি আদায়ের জন্য জনজীবন অচল করে দেওয়ার এই প্রবণতা থেকে আমরা কেন বেরিয়ে আসতে পারছি না? ২০২৬ সালের জুলাই ও আগস্টে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং অক্টোবরে পোশাকশ্রমিকদের সড়ক অবরোধের ঘটনা একই প্রশ্ন সামনে এনেছে। ২০২৬ সালের ১৪ ও ১৫ জুলাই ঢাকার উত্তরা ও সায়েন্স ল্যাবসহ বিভিন্ন স্থানে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধের খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ সব সড়কে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। একই বছরের ৯ আগস্ট গাজীপুরের টঙ্গীতে সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন। তাঁদের মূল দাবি ছিল একটি ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ। পুলিশ কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পর দুপুর ৩টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। তবে অবরোধ উঠে যাওয়ার পরও যান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যায়।
অতি সম্প্রতি ঘটনাটি ঘটে গত ১৫ অক্টোবর। রাজধানীর উত্তরার আজমপুর ও রাজলক্ষ্মী এলাকায় বকেয়া বেতন পরিশোধ, মজুরি বৃদ্ধি এবং ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। সকাল থেকে চলা এই কর্মসূচিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও আশপাশের সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। অবর্ণনীয় ভোগান্তিতে পড়েন হাজার হাজার কর্মজীবী মানুষ, গণপরিবহনের যাত্রী ও সাধারণ পথচারীরা। শ্রমিকদের অভিযোগ, জীবনযাত্রার ব্যয় যে হারে বেড়ে গেছে, তাতে বর্তমান বেতনে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার দাবি জানিয়েও তাঁরা কোনো সমাধান পাননি।
এই তিনটি ঘটনার প্রেক্ষাপট একেবারেই ভিন্ন। পরীক্ষার্থীদের অসন্তোষ, নিরাপদ সড়কের দাবি এবং শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও বকেয়া বেতন আদায়ের প্রশ্নকে কখনোই এক পাল্লায় মাপা যাবে না। বিশেষ করে বকেয়া বেতন কিংবা কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার মতো মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রধান দায়িত্ব। দীর্ঘদিন দাবি জানানোর পরও কার্যকর সমাধান না পেলে মানুষের ক্ষোভ বাড়ে এবং আন্দোলন তীব্র হয়। তাই শুধু পুলিশ দিয়ে অবরোধ তুলে দেওয়ার মাধ্যমে সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তবে এসব ঘটনা এটাও চোখে আঙুল দিয়ে দেখায়, দাবি আদায়ের চাপ তৈরি করতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে কেন বারবার চরম মূল্য দিতে হবে। একজন শ্রমিকের বকেয়া বেতন যেমন তাঁর ন্যায্য অধিকার, ঠিক তেমনি একজন কর্মজীবী মানুষের সময়, একজন শিক্ষার্থীর পরীক্ষা এবং একজন রোগীর দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানোর সুযোগও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতার দায় সাধারণ যাত্রীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই ন্যায়সংগত হতে পারে না।
সড়ক অবরোধের সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আমাদের একটি ভুল ধারণা অবশ্যই এড়িয়ে চলা প্রয়োজন। যানজট হচ্ছে বলেই সব প্রতিবাদ চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া যাবে, এমন চিন্তা গণতান্ত্রিক অধিকারের সঙ্গে মোটেও সংগতিপূর্ণ নয়। রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা নয়। নাগরিকের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও মতপ্রকাশের অধিকার সুরক্ষিত রাখাও রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান কাজ। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৭ অনুচ্ছেদে পরিষ্কারভাবে শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরস্ত্র অবস্থায় সমবেত হওয়া এবং জনসভা ও শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়ার অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। অবশ্য আইনসঙ্গত ও যুক্তিসংগত বিধিনিষেধের বিষয়টিও এখানে প্রাসঙ্গিক।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কমিটির ২০২০ সালের সাধারণ মন্তব্য নম্বর ৩৭ এ শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সমাবেশের কারণে কিছুটা যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে এবং এমন বিঘ্ন সব ক্ষেত্রে পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়। কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হলো অযৌক্তিক হস্তক্ষেপ না করে সমাবেশের সুন্দর সুযোগ তৈরি করা, প্রয়োজন অনুযায়ী যান চলাচল অন্য পথে পরিচালিত করা এবং সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে যেকোনো বিধিনিষেধ হতে হবে পুরোপুরি আইনসম্মত, প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক। অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডও এমন কোনো সরল সমাধান সমর্থন করে না, যেখানে যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখার অজুহাতে সব প্রতিবাদ কঠোরভাবে দমন করা হবে। আবার প্রতিবাদের অধিকার আছে বলেই যেকোনো মাত্রার জনদুর্ভোগকে অনিবার্য বলে চুপচাপ মেনে নেওয়াও সঠিক নয়। সমাধানটি তাই অধিকার কেড়ে নেওয়ার মধ্যে নেই। সমাধান লুকিয়ে আছে অধিকার প্রয়োগের এমন একটি পদ্ধতি তৈরির মধ্যে, যেখানে আন্দোলনকারীরা তাঁদের বক্তব্য জোরালোভাবে তুলে ধরতে পারবেন এবং সাধারণ মানুষও যথাসম্ভব স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন।
এই দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি বদলাতে হলে আমাদের কয়েকটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে।
প্রথমত, দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তির একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী, শ্রমিক কিংবা অন্য কোনো গোষ্ঠী দাবি নিয়ে রাস্তায় নামার আগেই যেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যাওয়ার কার্যকর সুযোগ পান, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। অভিযোগ গ্রহণের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জবাব দেওয়া, আলোচনার তারিখ নির্ধারণ এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি জনসমক্ষে প্রকাশ করা যেতে পারে। শুধু মৌখিক আশ্বাস দিয়ে সাময়িকভাবে আন্দোলন থামিয়ে দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ না হলে একই দাবি নিয়ে মানুষ বারবার রাস্তায় ফিরে আসবে।
দ্বিতীয়ত, আন্দোলনের জন্য বিকল্প স্থান ও পদ্ধতি তৈরি করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পুরোপুরি বন্ধ না করে নিরাপদ নির্ধারিত স্থানে অবস্থান, প্রতীকী অবরোধ, মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান এবং নির্দিষ্ট সময়ের কর্মসূচির সুযোগ আরও বাড়ানো যেতে পারে। তবে এসব বিকল্প যেন কোনোভাবেই প্রতিবাদের বক্তব্যকে জনদৃষ্টির বাইরে সরিয়ে দেওয়ার কৌশল না হয়। আন্দোলনকারীরা যেন তাঁদের ন্যায্য দাবি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ মানুষের কাছে কার্যকরভাবে পৌঁছাতে পারেন, সেটি রাষ্ট্রকেই নিশ্চিত করতে হবে।
তৃতীয়ত, প্রশাসনকে পরিস্থিতি অনুযায়ী অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কর্মসূচির আয়োজকদের সঙ্গে আগে থেকেই যোগাযোগ স্থাপন, জরুরি যান চলাচলের পথ খোলা রাখা, বিকল্প পথের তথ্য প্রচার এবং অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার যানবাহন চলাচল নিশ্চিত করা একান্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রশাসনের যেকোনো সিদ্ধান্ত হতে হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও আনুপাতিক। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে অযথা বাধাগ্রস্ত করা কিংবা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের মাধ্যমে পরিস্থিতি জটিল করা কোনো টেকসই সমাধান নয়।
চতুর্থত, আন্দোলনকারীদেরও জনস্বার্থের প্রতি দায়বদ্ধ হতে হবে। দাবি আদায়ের জন্য সাধারণ মানুষের দুর্ভোগকে প্রধান হাতিয়ার না করে আন্দোলনের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য, সময়সীমা ও কর্মসূচি স্পষ্ট করা উচিত। জরুরি সেবা, হাসপাতাল, পরীক্ষাকেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিবহনপথ সচল রাখার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আগাম সমন্বয় করা যেতে পারে। আন্দোলনের নামে ভাঙচুর, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা জরুরি চলাচলে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।
পঞ্চমত, গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজকে আন্দোলনের দাবির পাশাপাশি তার পদ্ধতি ও সামাজিক প্রভাব নিয়েও বস্তুনিষ্ঠ আলোচনা করতে হবে। শুধু কতক্ষণ সড়ক বন্ধ ছিল বা কতজন অংশ নিয়েছিলেন, সংবাদমাধ্যমে কেবল সেই চর্চা যথেষ্ট নয়। কর্তৃপক্ষ কীভাবে সাড়া দিয়েছে, দাবি কতটা যৌক্তিক এবং সাধারণ মানুষের ক্ষতি কমাতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, সেসব বিষয়ও নিয়মিত আলোচনায় আসা প্রয়োজন।
একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক সমাজে প্রতিবাদ থাকবে, মানুষের দাবি থাকবে, মতবিরোধও থাকবে। অনেক সময় এই আন্দোলনই অবহেলিত ও প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বরকে সামনে নিয়ে আসে। তাই সড়ক অবরোধের সমস্যার সমাধান খুঁজতে গিয়ে আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তাকে কোনোভাবেই অস্বীকার করা যাবে না। বরং আমাদের গভীরভাবে দেখতে হবে, কেন মানুষ মনে করেন যে রাস্তায় না নামলে তাঁদের কথা কেউ শুনবে না। এই আস্থার সংকট দূর করতে হলে রাষ্ট্র ও প্রশাসনকে কার্যকর জবাবদিহির ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদেরও বুঝতে হবে, যে জনসমর্থন তাঁদের দাবিকে সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী করে, সেই সাধারণ জনগণকেই দীর্ঘ সময় দুর্ভোগে ফেলে দিলে আন্দোলনের নৈতিক ভিত্তি মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে।
সড়ক কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর একক সম্পত্তি নয়। এটি অসুস্থ রোগীর, পরীক্ষার্থী শিক্ষার্থীর, খেটে খাওয়া শ্রমিকের, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর, কর্মজীবী মানুষের এবং এমনকি প্রতিবাদকারীরও চলাচলের প্রধান পথ। সেই পথকে দাবি আদায়ের একমাত্র অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা বদলাতেই হবে। তবে এই ইতিবাচক পরিবর্তন শুধু আন্দোলনকারীদের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করবে না। কর্তৃপক্ষের দ্রুত সাড়া প্রদান, প্রশাসনের দায়িত্বশীলতা এবং নাগরিক অধিকারের প্রতি পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শনও সমানভাবে জরুরি।
প্রশ্নটি তাই শুধু সড়ক অবরোধ কবে পুরোপুরি বন্ধ হবে, তা নয়। মূল প্রশ্ন হলো, একজন নাগরিককে তাঁর ন্যায্য দাবি জানানোর জন্য দেশের সড়ক অচল করতে হবে কেন? যে দিন সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করবেন, নিয়মতান্ত্রিক পথে অভিযোগ জানালে তার সঠিক জবাব পাওয়া যায়, আর যে দিন আন্দোলনকারীরা বুঝবেন, অন্যের অধিকার অক্ষুণ্ন রেখেও দাবি আদায়ের সফল লড়াই করা সম্ভব, ঠিক সে দিনই এই সংস্কৃতি বদলানোর বাস্তব ভিত্তি তৈরি হবে।