পাবনা: নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে পাবনা থেকে ঢাকা রুটে সরাসরি ট্রেন চলাচল চালু হতে পারে। এ জন্য ২০টি নতুন কোচ সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় পৌঁছেছে। কমিশনিংসহ কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ট্রেন চলাচল শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাজধানীর সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগ চালুর খবরে উচ্ছ্বসিত পাবনাবাসী।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কিছু ইন্টারনাল প্রসেস আছে, এগুলো অ্যাডজাস্ট করব আমরা। সপ্তাহ তিনেক সময় লাগবে। আমরা আশা করছি যে, নভেম্বরের মাঝামাঝি কোনো একটি দিনে আমরা এটি উদ্বোধন করতে পারব।’
পাবনা রেলওয়ে স্টেশনের আধুনিকায়নসহ প্রয়োজনীয় কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্টেশন ইনচার্জ মিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমাদের পাবনা স্টেশনের কাঠামোগত সকল কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তাছাড়া লাইনগত বা অ্যাক্সিডেন্টাল যা ক্রুটি ছিলো সেগুলো শেষ হয়ে গেছে। পাবনা টু ঢাকা অতি শিগগিরই লাইন চালু হবে।’
পাবনার ঈশ্বরদী ও চাটমোহরের মাধ্যমে জেলার মানুষ রেলসেবা পেলেও পাবনা শহর ও দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দারা এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। ২০১৯ সালে পাবনা-রাজশাহী রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হলেও জেলা সদর থেকে রাজধানী ঢাকায় সরাসরি ট্রেনে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। ফলে ঢাকায় যাতায়াতের জন্য সড়কপথের ওপর নির্ভর করতে হতো তাদের। এতে যানজটের কারণে দীর্ঘ সময় লাগার পাশাপাশি যাতায়াত ব্যয়ও বেশি হতো।
স্থানীয় বাসিন্দা আলাল বলেন, ‘ট্রেন চালু হলে যাতায়াতব্যবস্থা আরও সহজ হবে। পাবনা থেকে সহজেই ঢাকায় যাওয়া যাবে। সড়কপথে দীর্ঘ যানজট পেরিয়ে ঢাকায় যেতে যে সময় লাগত, ট্রেন চালু হলে সেই ভোগান্তি কমবে।’
ব্যবসায়ী এবিএম ফজলুর রহমান বলেন, ব্যবসায়িক কাজে তাকে সড়কপথে ঢাকায় যেতে হতো। বাস কিংবা অন্যান্য যানবাহনে ঢাকায় যাতায়াত ছিল সময়সাপেক্ষ ও নিরাপত্তার দিক থেকে উদ্বেগজনক। সরাসরি ট্রেন চালু হলে নিরাপদে ঢাকায় যাতায়াত করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।
প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো জেলা পাবনার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সরাসরি রেল যোগাযোগ ছিল না। নতুন এই রেলপথ চালু হলে জেলার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি সার্বিক উন্নয়নেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।