Thursday 29 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ফ্লাইট লে. তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার নিয়ে প্রসিকিউটর তানভীরের পোস্ট

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২৯ অক্টোবর ২০২৬ ১২:০৪

অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি।

ঢাকা: অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির নিখোঁজ হওয়ার পর মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়েছে। খবরটির আনুষ্ঠানিক সত্যতা ও বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত জানানো প্রয়োজন।

এক পোস্টে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর প্রযুক্তিবীদ তানভীর হাসান জোহা ফেসবুকে লিখেন, ‘ঘটনা সত্য হলে, তার মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, সেটি জানতে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত চাই। ময়নাতদন্তের পাশাপাশি শেষ চলাচলের সিসিটিভি, ফোনের তথ্য এবং সম্ভাব্য হুমকির আলামত দ্রুত সংরক্ষণ করা জরুরি। তার সঙ্গে আলোচিত ভিডিও প্রকাশের যে সম্পর্কের কথা বলা হচ্ছে, সেটিও যাচাই করা হোক। তবে প্রমাণের আগে মৃত্যুর সঙ্গে সেই ঘটনার যোগসূত্র টানা ঠিক হবে না। একজন মানুষ সম্পর্কে কার কী রাজনৈতিক মূল্যায়ন, তার ওপর তার মৃত্যুর সত্য জানার অধিকার নির্ভর করে না। পরিবার উত্তর পাওয়ার অধিকার রাখে। তদন্তের অগ্রগতি জনসমক্ষে জানানো হোক।’

বিজ্ঞাপন

তিনি করণীয় সম্পর্কে কমেন্ট সেকশনে লিখেন, ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের দাবি রাখে। তবে এখনই ভিডিও প্রকাশের কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলা যাবে না। তথ্যগুলো সঠিক ধরে তদন্তে কয়েকটি সম্ভাবনা খোলা রাখতে হবে- দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু, আত্মহত্যা, অথবা হত্যাকাণ্ড। কোনো একটিকে এগিয়ে রাখার মতো প্রমাণ এখানে নেই।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, তিনি জীবিত অবস্থায় পানিতে পড়েছিলেন, নাকি মৃত্যুর পর মরদেহ সেখানে ফেলা হয়েছে। নদীতে মরদেহ পাওয়া মানেই ডুবে মৃত্যু নয়। ময়নাতদন্ত, ঘটনাস্থলের আলামত ও শেষ চলাচলের তথ্য মিলিয়ে বিষয়টি বুঝতে হবে।

আমি তদন্তে এই বিষয়গুলো আগে দেখতাম-

১. শেষ নিশ্চিত উপস্থিতি: কে তাকে শেষ দেখেছেন, কোথায়, কখন এবং কার সঙ্গে? নিখোঁজ হওয়ার সময় ও পরিবারের সঙ্গে শেষ যোগাযোগ আলাদা করে নির্ধারণ করা।

২. মৃত্যুর কারণ: সুরতহাল, পূর্ণ ময়নাতদন্ত এবং প্রয়োজনীয় টক্সিকোলজি পরীক্ষায় কী পাওয়া যায়। দৃশ্যমান আঘাত না থাকলেও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।

৩. ডিজিটাল টাইমলাইন: ফোন, কল রেকর্ড, প্রাসঙ্গিক লোকেশন তথ্য, সিসিটিভি এবং যাতায়াতের রেকর্ড দ্রুত সংরক্ষণ করা। ফোন বন্ধ হওয়ার সময়কে মৃত্যুর সময় ধরে নেওয়া যাবে না।

৪. হুমকি বা বিরোধ: ভিডিও প্রকাশের পর কোনো হুমকি, চাপ বা অস্বাভাবিক যোগাযোগ হয়েছিল কি না। পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও আর্থিক বিরোধও যাচাই করতে হবে। ভিডিওর সঙ্গে সম্পর্ক একটি তদন্তযোগ্য প্রশ্ন, প্রতিষ্ঠিত কারণ নয়।

৫. উদ্ধারস্থল: মরদেহ যেখানে পাওয়া গেছে, সেখানেই মৃত্যু হয়েছে কি না। স্রোত ও আশপাশের সাক্ষ্য বিবেচনা করে সম্ভাব্য প্রবেশস্থল খুঁজতে হবে।

সন্দেহের জায়গাটি বোঝা যায়। কিন্তু সত্য চাপা পড়বে কি না, সেই আশঙ্কার চেয়ে এখন জরুরি হলো প্রমাণ হারানোর আগেই সংরক্ষণ করা। এই মুহূর্তে সবচেয়ে শক্ত অবস্থান হবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে অনুমান না ছড়িয়ে স্বাধীন, স্বচ্ছ ও প্রমাণভিত্তিক তদন্ত দাবি করা।

সারাবাংলা/ইউজে/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর