Thursday 29 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

সৌদি আরবে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: কনস্যুলার সহায়তায় ব্যর্থতার অভিযোগে হাইকোর্টে রিট

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৯ অক্টোবর ২০২৬ ১১:১৬

বাংলাদেশ হাইকোর্ট

ঢাকা: বিদেশে মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের সময়মতো কনস্যুলার সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতার অভিযোগে হাইকোর্টে জনস্বার্থমূলক রিট আবেদন করা হয়েছে। সৌদি আরবে গত ১৪ অক্টোবর দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এ আবেদন করা হয়।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও এফএম অ্যাসোসিয়েটসের পার্টনার অ্যাডভোকেট তাসমিয়াহ নুহিয়া আহমেদ নিজেই আবেদনকারী হয়ে রিটটি দায়ের করেন। এতে পররাষ্ট্রসচিব, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক, সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, জেদ্দায় বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল এবং সেখানকার শ্রমকল্যাণ উইংয়ের প্রধানকে বিবাদী করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রিটে বলা হয়েছে, বিদেশে মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের যথাসময়ে কনস্যুলার সহায়তা দিতে বিবাদীদের কথিত ব্যর্থতা কেন বেআইনি এবং সংবিধানের ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে অসংগত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হোক। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাঁদের আইনগত দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়ারও আবেদন জানানো হয়েছে।

আবেদনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের সব মিশনে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠানোর আদেশ চাওয়া হয়েছে। এসব নির্দেশনার মধ্যে মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশিদের মামলাগুলো জরুরি ভিত্তিতে পর্যালোচনা, আপিল ও ক্ষমার আবেদনের সময়সীমা চিহ্নিত করা, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্ধারণ এবং আইনসম্মত কনস্যুলার যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়গুলো রয়েছে।

এ ছাড়া সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কী ধরনের নথি ছিল এবং তাঁদের পক্ষে কী কী সহায়তামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, তা ব্যাখ্যা করে ১৪ দিনের মধ্যে হলফনামা দাখিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিদেশে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের অনেকের পরিবারের পক্ষে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সামর্থ্য থাকে না। ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা পাওয়ার সীমাবদ্ধতাও তাঁদের জন্য পরিস্থিতি জটিল করে তোলে। এ কারণে মৃত্যুদণ্ডের মতো গুরুতর ঝুঁকির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সক্রিয় ও সময়োপযোগী ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

আবেদনকারী মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর সরকারের নেওয়া কূটনৈতিক পদক্ষেপগুলোর বিষয়টি স্বীকার করলেও সহায়তা যথাসময়ে দেওয়া হয়েছিল কি না, তা সরকারি নথির ভিত্তিতে পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।

রিটে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লিখিত ব্যক্তিদের পরিচয়, তাদের মামলার বিবরণ এবং কনস্যুলার সহায়তার প্রকৃত অবস্থা সরকারি নথির মাধ্যমে যাচাইয়ের আবেদন জানানো হয়েছে।

আবেদনে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে, চাওয়া প্রতিকারগুলো বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনগত দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পর্কিত। কোনো বিদেশি রাষ্ট্র বা আদালতের বিরুদ্ধে সরাসরি আদেশ চাওয়া হয়নি।

 

 

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর