ঢাকা: ২৭ অক্টোবর, রাত ১টা ৩৫ মিনিট। তাহসিফ পরিবারকে ফোনে বলেন, ‘রওনা দিছি, আসতেছি।’ কিন্তু তিনি আর বাসায় ফেরেননি। এর পর একদিন তার কোনো খোঁজও মেলেনি। এমনকি মোবাইলেও পাওয়া যায়নি। সবশেষ ২৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় নৌপুলিশ তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে তার বাবাকে কল দিয়ে জানায়। তখন থেকেই উত্তরায় তাহসিফের পরিবারে চলছে শোকের মাতম।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যার দিকে তাহসিফ পরিচিত এক ছোটভাইয়ের ডাকে বাসা থেকে বেরিয়ে যান। মাকে বলে যান, ‘আম্মু একটু বাসার নিচ থেকে আসছি।’ কিন্তু তিনি আর বাসায় ফেরেননি।
তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল বলেন, ‘তাহসিফের আত্মহত্যার প্রশ্নই আসে না। ও সেটি করতেই পারে না। ও খুব ভালো ছেলে। অনেক কষ্ট করে কমিশন্ড লাভ করতে হয়। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তাকে হত্যা করে অন্য এলাকায় ফেলে দেওয়া হয়েছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আগে থেকে কোনো হুমকি ছিল না। কেউ তাকে হুমকি দিয়েছে এরকমও সে কখনো বলেনি আমাকে। খুবই বন্ধুত্বপুর্ণ সম্পর্ক ছিল আমার সঙ্গে। এমনকি তার বিয়ের জন্য মেয়ে দেখতেও বলেছিল। সে সবার জন্য শপিং করতো।’ তাহসিফের বাবা আরও বলেন, ‘দাফন শেষে এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
জানা যায়, ৭৭তম লং কোর্সের মাধ্যমে বিমানবাহিনীতে যোগ দেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি চাকরি ছাড়েন। কেন চাকরি ছেড়েছেন? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি তাহসিফের পরিবার। জানতে চাইলে পরিষ্কার করে কিছুই জানায়নি বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।
তাহসিফের বাবা বলেন, চাকরি থেকে অব্যাহতির পর কিছুদিন ক্রিকেট বোর্ডে কাজ করেছেন। নেত্র নিউজে কাজ করেছেন। এরপর সবশেষ ভার্গো টোব্যাকোতে চাকরি করছিলেন।