রাজবাড়ী: রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় আঞ্জুমান কাদরীয়া খানকা শরীফের রন্ধনশালায় মানসিক ভারসাম্যহীন এক ব্যক্তির হামলায় মো. ফজর আলী (৭০) নামের এক বাবুর্চি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সোনাভান বিবি নামে তার এক সহকারী গুরুতর আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে আঞ্জুমান-ই-কাদেরিয়া মাদরাসাতু সাবি-ইল-হাসান দাখিল মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ফজর আলী রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের মল্লিকপাড়া গ্রামের মৃত আহমেদ আলীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে খানকা শরীফের বাবুর্চি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আহত সোনাভান বিবি গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের বাহিরচর গ্রামের সাইমুদ্দিন শেখের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে রান্না শেষে মাদরাসার হোস্টেলের শিক্ষার্থীদের খাবার পরিবেশন করছিলেন বাবুর্চি ফজর আলী ও তার সহকারী সোনাভান বিবি। এ সময় অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি সেখানে এসে খাবার চান। খাবার না পেয়ে তিনি পাশেই থাকা রান্নার কাজে ব্যবহৃত কাঠের গুড়ি দিয়ে অতর্কিতভাবে ফজর আলীর মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করতে থাকেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এ সময় ফজর আলীকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে সোনাভান বিবিকেও মারধর করেন ওই ব্যক্তি। তাদের চিৎকার শুনে মসজিদের মুসল্লি ও আশপাশের লোকজন ছুটে এসে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করেন। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় দু’জনকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক কৌশিক হাসান ফজর আলীকে মৃত ঘোষণা করেন।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলাকারীকে আটক করেছে। এখন পর্যন্ত তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি। তাকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তার পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানান ওসি।