ময়মনসিংহ: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের চেতনায় নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে নজরুল বর্ষ উপলক্ষ্যে নগরীর জয়নুল আবেদিন পার্কের বৈশাখী মঞ্চে দুই দিনব্যাপী লোকজ সাংস্কৃতিক মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তার সাহিত্য, সংগীত, কবিতা ও মানবতাবাদী দর্শন বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে। নজরুলের সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা এবং শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের চেতনাকে ধারণ করে নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে হবে। তার বহুমাত্রিক সৃষ্টিশীলতার আলোকে একটি মানবিক, বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।’
নজরুল বর্ষ উপলক্ষ্যে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নজরুলের গান, কবিতা, নৃত্য ও রচনা প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে দেশব্যাপী প্রতিভা অন্বেষণ কার্যক্রম চলছে। এসব প্রতিযোগিতা আগামী বছরের মে মাস পর্যন্ত চলবে।’
তিনি বলেন, ‘এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করে জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনার সুযোগ সৃষ্টি হবে।’
বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি ও সংগীতের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে দেশব্যাপী লোকজ উৎসব ও সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব আয়োজনের মাধ্যমে লালন শাহ, হাসন রাজা, শাহ আবদুল করিমসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লোকসংগীত, লোকজ ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক ধারাকে বিকশিত ও সংরক্ষণে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় কাজ করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে তা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের সৃজনশীল বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করাও এসব আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।’
ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, সংস্কৃতিকর্মী, পেশাজীবী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
দুই দিনব্যাপী এ মেলায় স্থানীয় লোকজ ঐতিহ্য, সংগীত ও সংস্কৃতির বিভিন্ন পরিবেশনা এবং নানা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের আয়োজন করা হয়েছে।