ঢাকা: বিমানবাহিনীর চাকরিচ্যুত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেফতার জেরিকা তাসনীম দিশার সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ। ১৯ বছর বয়সী দিশাকে এ মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ রিমান্ড আবেদন করেন। আদালতটির বিচারক মো. রিপন হোসেনের আদালতে এ আবেদনের শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টার দিকে রাজধানীর কাফরুল থানাধীন নিজ বাসা থেকে দিশাকে গ্রেপ্তার করা তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্যপ্রযুক্তিগত উপাত্ত ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর রাতে নিহত তাহসিফের সঙ্গে উত্তরার ‘নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে’ গিয়েছিলেন দিশা। এর আগে তারা একাধিকবার ‘সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকসে’ও গিয়েছিলেন। এ ছাড়া মামলার অপর রিমান্ডে থাকা আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের (২৩) সঙ্গে একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে দিশাকে একসঙ্গে দেখা গেছে।
রিমান্ড আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, তাহসিফের সঙ্গে বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় অবস্থান এবং মোটরসাইকেলে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করেছিলেন দিশা। নিহতের মোবাইল ফোনের কললিস্ট পর্যালোচনা করেও ঘটনার আগে তাদের মধ্যে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তার দাবি, প্রাথমিক তদন্তে তাহসিফ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দিশার সংশ্লিষ্টতার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। হত্যার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, অন্য অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, হত্যাকাণ্ডের স্থান নির্ধারণ এবং আলামত উদ্ধারে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। পাশাপাশি অপর আসামি দীপের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে দিশার বক্তব্য মিলিয়ে দেখার জন্যও সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।
যেভাবে নিখোঁজ হন তাহসিফ
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার পর জুনিয়র বন্ধু দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। রাত বাড়লেও তিনি বাসায় না ফেরায় তার মা একাধিকবার ফোন করেন। তখন তাহসিফ কিছুক্ষণের মধ্যে ফিরে আসার কথা জানান।
পরে রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তাহসিফের মেসেঞ্জার অ্যাকাউন্ট থেকে তার মায়ের ফোনে একটি ভয়েস বার্তা পাঠানো হয়। সেখানে বলা হয়, ‘রওনা দিয়েছি, আসছি’। তবে এরপরও তিনি বাসায় ফেরেননি।
পরদিন (২৮ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে উত্তরখান থেকে নৌ পুলিশ ফোন করে তাহসিফ-এর বাবাকে জানায়, তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ৩০ অক্টোবর রাত ১টা ৫ মিনিটে রাজধানীর উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন তাহসিফের বাবা কেএম এনায়েতুল করিম। পরে মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে দীপ-কে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।
এজাহারে তাহসিফের বাবা উল্লেখ করেন, ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্নভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ২৮ অক্টোবর বিকেলে মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়ার পর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। পরদিন (২৯ অক্টোবর) দুপুরে নৌ পুলিশ পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে। পরে ওই দিন বিকেলে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাহসিফ-কে দাফন করা হয়।