Wednesday 04 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ডাকাতি-ছিনতাই চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার, চাকরিচ্যুত সেনা ও পুলিশ সদস্য

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৪ নভেম্বর ২০২৬ ২১:০৬

গ্রেফতার তিনজন।

ফরিদপুর: ফরিদপুরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পৃথক অভিযানে ডাকাতি ও ছিনতাই চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সেনাবাহিনী ও পুলিশের চাকরিচ্যুত দুই সদস্য রয়েছেন। এ সময় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ডাকাতি করা একটি ইয়ামাহা ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় অন্তত ১৬টি মামলার তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহম্মদ মিয়াজী।

পুলিশ সুপার জানান, নতুন ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ভাড়া নেওয়ার কথা বলে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিত একটি চক্র। পরে জোরপূর্বক ইজিবাইক ছিনতাই করত তারা। এ ঘটনায় তদন্তে নেমে চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। তারা হলেন পুলিশের চাকরিচ্যুত সদস্য মো. লিমন মিয়া (৩৪) ও তার সহযোগী মো. সাখাওয়াত মুন্সি ওরফে সাকা (৩৬)। দুইজনের বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায়।

বিজ্ঞাপন

জিজ্ঞাসাবাদে লিমন জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে ইজিবাইক চুরি ও ছিনতাই করতেন। পরে এসব যানবাহন মুকসুদপুরের মন্টু মিয়া নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করতেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, লিমনের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই, অস্ত্র ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে অন্তত ১১টি মামলা রয়েছে।

অন্যদিকে, এ ঘটনার সূত্র ধরে ফরিদপুর শহরের রঘুনন্দনপুর এলাকায় অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। সেখান থেকে সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত সদস্য মো. ইমদাদুল হক ওরফে জাহাঙ্গীরকে (৫৫) গ্রেফতার করা হয়। তিনি খুলনার লবণচরা এলাকার বাসিন্দা। এ সময় তার হেফাজত থেকে একটি ইয়ামাহা ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, মোটরসাইকেলটি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় ডাকাতি করে নেওয়া হয়েছিল।

পুলিশ আরও জানায়, ওই ডাকাতির ঘটনায় নগদ ২৪ লাখ টাকাসহ প্রায় ৬৪ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়। জাহাঙ্গীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ডাকাতি ও মোটরসাইকেল চুরি করে ফরিদপুরসহ আশপাশের জেলায় বিক্রির কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে মামলাসহ বিভিন্ন থানায় অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী জানান, এই চক্রের সঙ্গে বড়ো ধরনের অপরাধী নেটওয়ার্ক জড়িত। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।

চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতার এবং চোরাই মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর